বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের পর ধুন্ধুমার! গণপিটুনিতে মৃত অভিযুক্ত, নির্যাতিতার বাবাকে ফোন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে এক অভিযুক্তের। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে, পুলিশ ক্যাম্পেও ভাঙচুর চালানো হয়। এই চরম উত্তেজনার মাঝেই নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কী কী আশ্বাস দিলেন তিনি? কেন থমকে গেল শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ট্রেন চলাচল? জানুন খুঁটিনাটি।
রবিবার সকালে বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় এক নাবালিকার নিথর দেহ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নাবালিকাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করার পর খুন করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে কুলপি রোডে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন উত্তেজিত জনতা। বিচার চেয়ে রাস্তা অবরোধ করায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।
নাবালিকা মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের ক্ষোভ গিয়ে পড়ে অভিযুক্তদের ওপর। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এই জঘন্য অপরাধের পেছনে ৪ থেকে ৫ জন জড়িত রয়েছে।
অভিযুক্তের পরিচয়: গণপিটুনিতে নিহত যুবকের নাম ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬)। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি এই অপরাধের অন্যতম মূল চক্রী ছিলেন।
কী ঘটেছিল? রবিবার সকালে ইন্দ্রজিৎকে দেখতে পেয়েই তাড়া করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর তাঁকে ধরে গণপিটুনি দেওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে বারুইপুর থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। উত্তেজিত জনতা সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্পে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায় এবং বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আক্রান্ত হন।
এখানেই শেষ নয়, ঘটনার প্রতিবাদে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেন অবরোধ করেন উত্তেজিত জনতা। এর ফলে সপ্তাহের প্রথম দিকেই চরম ভোগান্তিতে পড়েন শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার হাজার হাজার নিত্যযাত্রী। প্রায় ঘণ্টাখানেক স্তব্ধ থাকে ট্রেন চলাচল।
বারুইপুরের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর পৌঁছানো মাত্রই সক্রিয় হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি নির্যাতিতা নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান।
ভবানীভবনে তলব: মুখ্যমন্ত্রী নির্যাতিতার পরিবারকে আগামী মঙ্গলবার রাজ্যের পুলিশ সদর দফতর ভবানীভবনে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন।
কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস: মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, পরিবারের সমস্ত দাবি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শোনা হবে এবং দোষীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ফোনের পরই পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং উত্তেজিত জনতা রেল অবরোধ তুলে নেন। তবে এলাকায় এখনও চরম উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।



