রাজনীতিরাজ্য

অবশেষে হার স্বীকার মমতার! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কী বললেন তৃণমূল সুপ্রিমো?

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

অবশেষে হার স্বীকার মমতার! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কী বললেন তৃণমূল সুপ্রিমো? - West Bengal News 24

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (Bengal Election Results) ফলাফল প্রকাশের পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ দুই মাস। অবশেষে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে এল এক ঐতিহাসিক মোড়। এতদিন যে ফলাফলকে ‘কারচুপি’ বলে মানতে অস্বীকার করেছিলেন, সেই ফলাফলেই এবার সিলমোহর দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার ফেসবুক লাইভে এসে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (CM Suvendu Adhikari) শুভেচ্ছা জানালেন তিনি। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিলেন শুভেন্দুর পুরনো রাজনৈতিক ইতিহাসও।

রাজনৈতিক মহলের মতে, গত ২ মাসে যেভাবে তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ধরেছে, তার জেরেই শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আসুন জেনে নেওয়া যাক, এদিনের লাইভে ঠিক কী কী বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন :: তৃণমূল কংগ্রেসে মহাবিস্ফোরণ! পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা, দলের রাজ্য সভানেত্রী পদে নিজেই বসলেন মমতা; দুই নতুন সেনাপতি মদন ও কুণাল

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই হার তিনি মানেন না। গণনায় কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

  • ইস্তফা দিতে অস্বীকৃতি: হারের দায় স্বীকার না করে দীর্ঘদিন রাজভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতেও অস্বীকার করেছিলেন তিনি।

  • শুভেন্দুকে বয়কট: স্বাভাবিকভাবেই এতদিন শুভেন্দু অধিকারীকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোনো মান্যতা দেননি মমতা।

  • দলের ভাঙন: তবে গত দুই মাসে দলের একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলব্যাগ এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক ভাঙন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে দেয়।

শনিবারের ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বেশ কিছু পুরোনো ও তাৎপর্যপূর্ণ স্মৃতি মনে করিয়ে দেন। শুভেন্দুর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন:

“নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আপনিও তৃণমূল করেছেন বহু বছর। আগে কংগ্রেসও করেছেন। তবে আপনিও হেরেছেন। আপনার জন্য আমি প্রচারে গিয়েছিলাম। ওটা যদিও আমার দায়িত্ব ছিল।”

এখানেই শেষ নয়, শুভেন্দু অধিকারী যখন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের ভূমিকায় ছিলেন, সেই সময়ের কথা তুলে ধরে মমতা মনে করান যে, শুভেন্দু তৃণমূল সরকারের একাধিক দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন, ৬টি জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন এবং হলদিয়া ও দিঘা উন্নয়ন পর্ষদও তাঁর হাতেই ছিল।

দলবদলু ও কেন্দ্রীয় এজেন্সি নিয়ে বিস্ফোরক তৃণমূল সুপ্রিমো

এদিনের লাইভে নাম না করে বিজেপিতে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের তীব্র নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে (CBI/ED) রাজনৈতিক হাতিয়ার করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন:

  • সাধু বনাম দোষী: “যারা আপনার সঙ্গে গেল তাঁরা সাধু হয়ে গেল। আর যারা গেল না, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই এবং আরও কত কী!”

  • পাল্টা হুঁশিয়ারি: দলবদলু ও বিরোধীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, “মনে রাখবেন, সব ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে।”

মানুষের পাশে থাকার বার্তা ও আগামীর রাজনীতি

হার স্বীকার করলেও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা এদিনের বার্তায় স্পষ্ট। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসে বাম সাম্রাজ্যের পতন ঘটানো এই নেত্রী সাফ জানিয়েছেন, নতুন সরকার যদি মানুষের জন্য কাজ করে, তবে তিনি ও তাঁর দল পাশে থাকবে।

এখন দেখার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হার স্বীকার এবং শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মেনে নেওয়ার পর বাংলার রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়। তৃণমূল কি পারবে এই ভাঙন রুখে আবার ঘুরে দাঁড়াতে? আপনার কী মনে হয়? কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান।

আরও পড়ুন ::

Back to top button