
কালীঘাট শিবিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ক্রমশই বাড়ছে। একের পর এক ঘনিষ্ঠ নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ বিদ্রোহী শিবিরের হাতে চলে যেতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এই আবহেই শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে সম্ভাব্য প্রতীক হারানোর প্রসঙ্গে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি স্পষ্ট জানান, “প্রতীক যদি চলেও যায়, তাতে কিছু যায় আসে না। রাস্তায় বেরলে আমার কণ্ঠরোধ করতে পারবেন না। গলায় সিম্বল ঝুলিয়ে বাড়ি বাড়ি যাব। নতুন করে গড়ে তুলব।”
অন্যদিকে, তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ ঘিরেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ধর্মতলায় সভা করার অনুমতি না মেলায় কোথায় কর্মসূচি হবে, তা এখনও নির্দিষ্ট হয়নি। তবে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে মমতা বলেন, “রিক্সা চড়ে হলেও হবে ২১ জুলাই।”
আরও পড়ুন :: পুজোর জৌলুসে কি পড়বে ভাটা? পালাবদলের পর তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের দুর্গাপুজো ঘিরে বাড়ছে জল্পনা
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই একের পর এক তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন। সেই তালিকায় সদ্য প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নামও উঠে এসেছে, যদিও তিনি বিদ্রোহী শিবিরে যোগদানের বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানাননি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে দলের প্রতীক নিয়ে সম্ভাব্য জটিলতার প্রসঙ্গ তোলেন মমতা।
তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করে সিম্বল কেড়ে নিতে পারেন। যদিও আমরা জানি সিম্বল আপনার পক্ষে যাবে না। কিন্তু ধরে নিলাম যদি ভ্যানিশ কুমারবাবু (জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার) যদি সিম্বল দিয়েও দেন তাতে কি যায় আসে? সিম্বল সেটাই হয় যেটা সাধারণ মানুষ গ্রহণ করে। আমি এই সিম্বল নিয়ে লড়াই করেছিলাম। আর এখন দরকারে গলায় সিম্বল ঝুলিয়ে মানুষের কাছে যখন বেরব। আপনারা কি আমার কন্ঠরোধ করতে পারবেন?”
আরও পড়ুন :: অবশেষে হার স্বীকার মমতার! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কী বললেন তৃণমূল সুপ্রিমো?
২১ জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়েও এদিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তৃণমূল নেত্রী। ধর্মতলায় সভার অনুমতি না মিললেও কর্মসূচি বাতিল করা হবে না বলেই জানিয়ে দেন তিনি। মমতা বলেন, “রিক্সা চড়েও হলেও হবে ২১ জুলাই। এখন স্থান ঠিক হয়নি। জানিয়ে দেওয়া হবে।”



