রাজনীতিরাজ্য

তৃণমূল ভবনের ‘দখল’ নিল ঋতব্রত শিবির! গেটে ‘মমতাহীন’ পোস্টার, নতুন তালা! পৌঁছল ‘কালীঘাট তৃণমূল’

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

তৃণমূল ভবনের ‘দখল’ নিল ঋতব্রত শিবির! গেটে ‘মমতাহীন’ পোস্টার, নতুন তালা! পৌঁছল ‘কালীঘাট তৃণমূল’ - West Bengal News 24

প্রতীক ও দলীয় তহবিলের টানাপোড়েনের পর এবার সামনে এল দলীয় কার্যালয়কে ঘিরে নতুন বিতর্ক। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইএম বাইপাস সংলগ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবি করল ঋতব্রত শিবির। রাজনৈতিক মহলে নজিরবিহীন এই ঘটনার জেরে ‘তৃণমূল ভবন’-এর প্রবেশদ্বারে দেখা গেল ‘মমতাহীন’ পোস্টার। সেখানে চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অরূপ রায়ের নাম। পাশাপাশি কার্যালয়ের গেটে লাগানো হয়েছে নতুন তালা।

‘বিদ্রোহী’ শিবিরের অন্যতম মুখ আখরুজ্জামান আনসারি বলেন, “এই ভবন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের আবেগ। আমরা এখানেই বসব। বাড়িমালিক মণ্টু সাহার সঙ্গে এই মর্মে চুক্তিও সই হয়েছে।” তিনি আরও জানান, কার্যালয়ের দরজায় নতুন তালা লাগানো হয়েছে এবং সেই তালার চাবি এখন তাঁদের কাছেই থাকবে।

আরও পড়ুন :: আবেদন করেও কেন ঢুকলো না অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা? জেনে নিন ফর্ম বাতিলের আসল কারণ!

এদিন ভবনের বাইরে নতুন দলীয় পোস্টারও টাঙানো হয়। সেই পোস্টারে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। পরিবর্তে চেয়ারপার্সন হিসেবে শুধুমাত্র অরূপ রায়ের নাম রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সেখানে পৌঁছন তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক তথা ‘কালীঘাট শিবির’-এর অন্যতম মুখ কুণাল ঘোষ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইটি সেলের প্রধান উপাসনা চৌধুরীও। তবে গেটে তালা থাকায় তাঁরা কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করতে পারেননি।

ঘটনাটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করে কুণাল ঘোষ বলেন, “যারা এসেছিলেন, তাঁরা কি নির্দল প্রতীকে জিতেছেন? দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনও কাজ করব না। কর্মীরা কষ্ট পাচ্ছেন। এদিকে এঁরা হোটেল, বিজেপি নেতাদের বাড়ি যাচ্ছেন।”

দলীয় প্রতীক ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েনের আবহেই বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা। দিল্লি থেকে ফেরার পরই তাঁরা ইএম বাইপাসের ধারের তৃণমূলের পুরনো কার্যালয়ে পৌঁছন এবং সেখানে বসেও বৈঠক করেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “আমরাই তৃণমূল, এটাই আমাদের কার্যালয়।” শিবির সূত্রের দাবি, শনিবার থেকেই ওই কার্যালয় থেকে নিয়মিত সাংগঠনিক কাজ শুরু হবে।

তৃণমূল কংগ্রেস শাসকদলে পরিণত হওয়ার বহু আগেই ইএম বাইপাসের ধারের এই ভবনটি ছিল দলের প্রধান কার্যালয়। একসময় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়মিত যাতায়াত ছিল সেখানে এবং নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে সবসময় সরগরম থাকত অফিসটি। ভবনের মালিক মন্টু সাহা ও তাঁর ছেলে অমিত সাহা এর আগে অভিযোগ করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বাড়ি দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হলেও সেটি ফেরত দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁদের ফোনেরও উত্তর দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছিলেন তাঁরা। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট শিবির’-এর উপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button