‘মাছ চোর’ গানে কাঁপল জীবনতলা! কোমরে দড়ি দিয়ে হাঁটানো হলো শওকত মোল্লাকে, ওদিকে গুঁড়িয়ে গেল ছেলের বিলাসবহুল ক্যাফে 💥😮
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেতাদের পুলিশি হেফাজতে রেখে জনসমক্ষে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বদলের বাংলায় এখন প্রায় নিয়মিত ছবি। কোথাও কোমরে দড়ি বেঁধে, কোথাও আবার হাফপ্যান্ট-গেঞ্জি পরিয়ে অভিযুক্তদের জনসমক্ষে হাঁটানো হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা (Saokat Molla)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জীবনতলা বাজার এলাকায় তাঁকে নিয়ে যায় পুলিশ। সেই সময় রাস্তায় উপস্থিত বহু মানুষ বাজাতে শুরু করেন ভোটের সময় ভাইরাল হওয়া ‘শওকত তো মাছ চোর’ গান। যদিও পুলিশ সূত্রে দাবি, তাঁকে শুধুমাত্র হাঁটানোর জন্য নয়, ঘটনার পুনর্নির্মাণের স্বার্থেই জীবনতলা বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু উদ্দেশ্য যাই হোক, ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ শওকতকে সামনে পেয়ে গান বাজিয়েই নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন :: ২১ জুলাইয়ের আগে বড় ধাক্কা! অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় আদালত কী জানাল?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘনিষ্ঠ শওকত মোল্লাকে ভাঙড় কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল। সেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি। ভোটের কয়েকদিন আগে শওকতকে ঘিরে একটি ব্যঙ্গাত্মক গান সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। গানের লাইন ছিল ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল ভাঙ্গড়েতে এসে/বলির পাঁঠা প্রার্থী হয়ে খোকা গেল ফেঁসে/মাছচোর মাছচোর, শওকত তো মাছচোর/বোম বাঁধা কাজ ওর/শওকত তো মাছচোর।’ যদিও নওশাদ সিদ্দিকি এই গানকে ‘নিম্নরুচির পরিচয়’ বলে মন্তব্য করেন এবং স্পষ্ট জানান, আইএসএফের কেউ এই গান তৈরি করেনি। গানটির স্রষ্টা কে, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।
নির্বাচনে ভাঙড় কেন্দ্র থেকে পরাজয়ের পর বিস্ফোরণ মামলায় এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তার হন শওকত মোল্লা। পরে ধর্ষণ মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জীবনতলা থানার পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়। সেই সময় থানায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই রাখা হয়েছিল তাঁকে। তবে ‘মাছচোর’ গানটি যেন তাঁর পিছু ছাড়েনি। বৃহস্পতিবার তাঁকে নিয়ে পুলিশ রাস্তায় বেরোতেই রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন সেই ভাইরাল গান বাজাতে শুরু করেন। অনেকেই আবার গান বাজানোর পাশাপাশি শওকতকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তিও করেন। শুধু তাই নয়, স্থানীয় বিজেপি নেতা অলিরুল পিয়াদা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেন। পথচলতি মানুষ থেকে গাড়িচালক অনেককেই মিষ্টি খাওয়াতে দেখা যায় তাঁকে।
এদিন সকালেই শওকতপুত্র ইমরান মোল্লার বেআইনি ক্যাফের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাতলা নদীর চর দখল করে তৈরি হওয়া ‘অরণ্যের কূলে’ ক্যাফেটিকে প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের পর বেআইনি ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। ২৯ জুনের মধ্যে নিজে থেকে ওই নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ইমরানকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই নির্দেশ পালন না করায় বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বিলাসবহুল ‘অরণ্যের কূলে’ ক্যাফেটি।



