রাজ্য

অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসা পরিষেবা ঘিরে একাধিক অভিযোগ

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসা পরিষেবা ঘিরে একাধিক অভিযোগ - West Bengal News 24

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পকে ঘিরে ফের উঠল একাধিক অভিযোগ। এবার স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনা এবং চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের দাবি তুলেছে বিরোধীরা। অভিযোগের তির মূলত কালীঘাট তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার দাবি, ওই ক্যাম্পে নাকি মডার্ন চিকিৎসার ওষুধ দিতেন জুনিয়র ডাক্তার, হোমিওপ্যাথি ডাক্তার ও আয়ুষ চিকিৎসকরা। পাশাপাশি, শিবিরে যুক্ত থাকা এক চিকিৎসকেরও অভিযোগ, এমআরআই ও স্ক্যানের নাম করে রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের অর্থ ঘুরপথে ব্যবহার করা হতো। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে প্রথমে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে ৭৫ দিনের স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি হিসেবে ‘সেবাশ্রয়’ শুরু হয়েছিল। সেখানে আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হতো। পরে নন্দীগ্রাম-সহ রাজ্যের আরও বিভিন্ন এলাকায় এই শিবিরের আয়োজন করা হয়। সাধারণ মানুষের কাছে এই উদ্যোগ যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছিল এবং অনেকের কাছেই তা ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল। তবে সম্প্রতি এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগে ডায়মন্ড হারবার মহকুমার সরিষার হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার হয়, যার গায়ে ‘সেবাশ্রয়’-এর লোগো ছিল। সেই ঘটনাকে ঘিরেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এবার চিকিৎসক নিয়োগ এবং চিকিৎসা পরিষেবা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন :: চুরি মামলায় এবার তদন্তের নজরে ব্যাঙ্ক! রাম মন্দির কাণ্ডে রহস্য আরও ঘনীভূত

ঠিক কী অভিযোগ? ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা বলেন, “অভিযোগ যা শুনতে পাচ্ছি বা নিজেও জেনেছি, তা হল সেবাশ্রয়ে চিকিৎসক হিসেবে থাকতেন জুনিয়র ডাক্তার, হোমিওপ্যাথি ও আয়ুষ চিকিৎসকরা। তারাই মর্ডান মেডিসিনের প্রেসক্রিপশন দিতেন। তাছাড়া প্রচুর ওষুধ মিলেছে মাটির নিচে। ওগুলোও সম্ভবত ভুয়ো বা নিম্নমানের, অন্যথায় মাটিতে পুঁতে দেওয়া হবে কেন?”

শুধু বিরোধী শিবিরের অভিযোগই নয়, এই বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন সেবাশ্রয় শিবিরের সঙ্গে যুক্ত থাকা এক চিকিৎসকও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসকের দাবি, শিবিরে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অন্য উপায়ে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা করা হতো।

ওই চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, রোগীদের এমআরআই ও সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দেওয়া হতো। কিন্তু এই পরীক্ষাগুলি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের আওতায় না থাকায়, প্রেসক্রিপশনে সেই পরীক্ষার পরামর্শ লেখা হলে বিভিন্ন হাসপাতালের মার্কেটিং বিভাগের কর্মীরা রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য রাজি করাতেন। এরপর হাঁটু ব্যথা বা অন্য শারীরিক সমস্যার কারণ দেখিয়ে তাঁদের ১০ থেকে ১২ দিন হাসপাতালে ভর্তি রাখা হতো। এর ফলে চিকিৎসার বিল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেত এবং সেই অর্থ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের তহবিল থেকে মেটানো হতো। ওই চিকিৎসকের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের অর্থ ঘুরপথে ব্যবহার করা হয়েছে।

এই অভিযোগগুলি সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামীকাল এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও একটি এফআইআর দায়ের করতে পারে বিজেপি।

আরও পড়ুন ::

Back to top button