জানা-অজানাপ্রযুক্তি

বর্ষাকালে AC চালাচ্ছেন? এই একটি ভুলেই পকেট ফাঁকা করবে বিদ্যুতের বিল! রইল সাশ্রয়ের ৫ জাদুকরী ট্রিক

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বর্ষাকালে AC চালাচ্ছেন? এই একটি ভুলেই পকেট ফাঁকা করবে বিদ্যুতের বিল! রইল সাশ্রয়ের ৫ জাদুকরী ট্রিক - West Bengal News 24

তীব্র গরমের পর বর্ষার বৃষ্টি স্বস্তি এনে দিলেও, ভ্যাপসা গরম আর বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা (Humidity) কিন্তু পিছু ছাড়ে না। এই চটচটে অস্বস্তি থেকে বাঁচতে অনেকেই বর্ষাকালেও দেদার এসি (AC) চালান। কিন্তু আপনি কি জানেন, বর্ষায় এসি চালানোর নিয়ম গরমকালের চেয়ে অনেকটাই আলাদা? সাধারণ কিছু ভুলের কারণে এই মরসুমে এসির ওপর দ্বিগুণ চাপ পড়ে, যার সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়ে আপনার পকেটে— অর্থাৎ চড়চড়িয়ে বাড়ে বিদ্যুতের বিল (Electricity Bill)।

তবে চিন্তা নেই! বর্ষাকালে ঘর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি কীভাবে বিদ্যুতের বিল একধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব, তার কিছু সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী টেকনিক নিয়ে এল আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদন। এই ৫টি ট্রিক মেনে চললে পুরো বর্ষাকাল জুড়েই এসি চলবে একদম নামমাত্র খরচে।

১. দরজা-জানালার ফাঁক গলে বেরোচ্ছে টাকা? ভুলেও এই কাজ করবেন না

অনেকেরই অভ্যাস থাকে এসি চালু রেখেই বারবার ঘরের দরজা বা জানালা খোলা। গরমকালে এই ভুলটি যতটা ক্ষতিকর, বর্ষাকালে তার চেয়েও মারাত্মক। কারণ, বাইরে তখন আর্দ্র বাতাস ঠাসা থাকে। দরজা-জানালা খোলা থাকলে বাইরের আর্দ্র হাওয়া ঘরে ঢুকে পড়ে। ফলে ঘর ঠান্ডা হতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে এবং এসির কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। তাই এসি চালানোর সময় ঘর পুরোপুরি এয়ার-টাইট রাখুন।

আরও পড়ুন :: এআই অ্যাপ এবং নগ্ন ছবি: কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন?

২. রিমোটের ‘ড্রাই মোড’ (Dry Mode) অন করেছেন তো?

বর্ষাকালের আসল ভিলেন কিন্তু তাপমাত্রা নয়, বরং বাতাসের আর্দ্রতা। তাই এই মরসুমে এসি সবসময় সাধারণ ‘কুল মোড’-এ না চালিয়ে রিমোটের ‘Dry Mode’ (যা জলের ফোঁটা চিহ্নের মতো থাকে) ব্যবহার করুন।

  • এই মোডটি ঘরের ভেতরের অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা গুমোট ভাব শুষে নেয়।

  • পরিবেশকে ঝরঝরে ও আরামদায়ক করে তোলে।

  • সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ড্রাই মোডে কম্প্রেসর কম চলে, যার ফলে সাধারণ কুলিং মোডের তুলনায় বিদ্যুতের বিল অনেকটাই কম আসে।

৩. ১৮-২০ ডিগ্রি নয়, ২৪ থেকে ২৬-ই হলো ম্যাজিক নম্বর

অনেকেরই ধারণা, এসি ১৮ বা ২০ ডিগ্রিতে চালালে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়। বিজ্ঞান কিন্তু বলছে অন্য কথা। ব্যুরো অফ এনার্জি এফিসিয়েন্সি (BEE)-এর মতে, মানুষের শরীরের জন্য ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আদর্শ। বর্ষাকালে বাইরের তাপমাত্রা এমনিতেই কিছুটা কম থাকে, তাই এসি ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রির মধ্যে সেট করে রাখুন। এতে ঘর যেমন মনোরম থাকবে, তেমনই প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্য আপনার প্রায় ৬% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

৪. এসির ফিল্টার পরিষ্কার তো? না দেখলেই বিপদ!

বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া এবং বাতাসে থাকা ধুলোবালি মিলে এসির ভেতরের এয়ার ফিল্টারটি খুব দ্রুত জ্যাম বা নোংরা হয়ে যায়। ফিল্টার নোংরা থাকলে এসি পর্যাপ্ত বাতাস টানতে পারে না, ফলে ঘর ঠান্ডা হতে চায় না এবং এসি বেশি বিদ্যুৎ টানতে শুরু করে। তাই প্রতি ১৫ দিনে একবার করে এসির ফিল্টারটি নিজে খুলে জল দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। এতে এসির আয়ু বাড়বে এবং বিলও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৫. আউটডোর ইউনিটের (Outdoor Unit) খোঁজ নিয়েছেন শেষ কবে?

আমরা ঘরের ভেতরের ইনডোর ইউনিট পরিষ্কার রাখলেও, বাড়ির বাইরে বা ছাদে থাকা আউটডোর ইউনিটটির কথা ভুলেই যাই। বর্ষায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে আউটডোর ইউনিটের ফ্যান ও কয়েলে পাতা, কাদা বা নানারকম আবর্জনা জমে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে কম্প্রেসর গরম হয়ে যায় এবং ঘর ঠান্ডা করতে অতিরিক্ত শক্তি খরচ করে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর আউটডোর ইউনিটটি ভালো করে ওয়াশ করান।

পেশাদার টিপস: বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই বা বর্ষার মাঝপথে একবার অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে এসি সার্ভিসিং করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক অপারেটিং মোড আর সামান্য সচেতনতাই পারে এই বর্ষায় আপনার পকেটের সাশ্রয় ঘটাতে।

আপনার কি মনে হয় এই ট্রিকসগুলো আপনার বিদ্যুতের বিল কমাতে সাহায্য করবে, নাকি আপনি অন্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করেন? কমেন্ট করে আমাদের জানান!

আরও পড়ুন ::

Back to top button