রাজ্য

‘মাইনে বাড়লে আমার লাভ কী?’ এবার পুরসভার ক্যান্টিন কর্মীদেরও কাটমানির খাঁড়া ফিরহাদ-প্রাক্তনের!

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

‘মাইনে বাড়লে আমার লাভ কী?’ এবার পুরসভার ক্যান্টিন কর্মীদেরও কাটমানির খাঁড়া ফিরহাদ-প্রাক্তনের! - West Bengal News 24

তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে কালীর বিরুদ্ধে এবার নতুন অভিযোগ উঠল। কলকাতা পুরসভার ক্যান্টিনের কর্মীদের দাবি, তাঁদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় বারবার বাধা সৃষ্টি করতেন কালীচরণ। তাঁর গ্রেপ্তারের পরই পুরসভার অন্দরের একাধিক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে।

কলকাতা পুরসভার ক্যান্টিনে বর্তমানে ২৭ জন কর্মী কাজ করেন। জানা গিয়েছে, তাঁদের বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। গত পাঁচ বছরে অন্তত ছয়বার কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের জন্য মেয়রের কাছে পাঠানো হয়েছিল। অভিযোগ, দু’বার মেয়রের অনুমোদন মিললেও সেই ফাইল আর এগোয়নি। কর্মীদের অভিযোগ, কালীচরণই সেই ফাইল আটকে রাখতেন। এমনকি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করতেন, ‘মাইনে বাড়লে আমার কী লাভ?’ এই অভিযোগ সামনে আসার পর পুরসভাতেও কাটমানি বা তোলাবাজির চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন :: হিন্দু হোমল্যান্ড রক্ষায় শুভেন্দুর মেগা ঘোষণা! জমি জেহাদ রুখতে ও ধর্মান্তকরণ বন্ধে আসছে কড়া আইন

পুরসভার এক আধিকারিকের দাবি, বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত কোনও ফাইল কালীচরণের ঘরে গেলে তা আর বাইরে বেরোত না। কর্মীরা ফাইলের অগ্রগতি জানতে চাইলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ। এমনকি অপমান করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, পুরসভার অন্দরে নিজের প্রভাব খাটিয়ে কালীচরণ কার্যত একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রয়োগ করতেন। সেই কারণেই দীর্ঘদিন কেউ তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি।

উল্লেখ্য, তারাতলার গোডাউন বিপর্যয়ের তদন্তে সিট ইতিমধ্যেই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে। দুর্ঘটনার পর বিধানসভায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছিলেন, “ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশেই পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল কালীকে। আর কালী জানে না এমন কোনও বিল্ডিং কলকাতায় নেই। সব বিল্ডিংয়ের অনুমোদন হত ওর কথায়। ওঁকে ধরলেই সব সামনে চলে আসবে।” তদন্তের অগ্রগতির মধ্যেই এবার পুরসভার ক্যান্টিন কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির ফাইল আটকে রাখার অভিযোগও সামনে এল, যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button