কলকাতা-সহ একাধিক পুর এলাকায় আপাতত বন্ধ নির্মাণকাজ, সব বিল্ডিং প্ল্যান খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি রাজ্যের
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

তারাতলা দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। কলকাতা-সহ একাধিক পুরসভা এলাকায় চলতে থাকা সমস্ত নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিবৃতি দিতে গিয়ে তিনি এই ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে এই ঘটনার জন্য কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কলকাতা, রাজারহাট-নিউ টাউন, মহেশতলা, বজবজ, পুজালি, সোনারপুর এবং বারুইপুর পুরসভা এলাকার সমস্ত নির্মীয়মাণ ভবনের কাজ আপাতত স্থগিত থাকবে। প্রতিটি বিল্ডিংয়ের অনুমোদিত প্ল্যান অডিট করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেই উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, নবগঠিত কমিটিতে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে, খলিল আহমেদ, রাজেশ সিনহা, রচনা ভগত, ডিজি বিল্ডিং, ডিজি ফায়ার এবং আইআইটি খড়গপুরের বিশেষজ্ঞ-সহ একাধিক আধিকারিক ও বিশেষজ্ঞ থাকবেন। এই কমিটি সমস্ত বিল্ডিং প্ল্যান খতিয়ে দেখবে। তাদের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত কোনও নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে না। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, অডিটে যদি কোনও ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি ধরা পড়ে, তবে শুধু সম্পত্তি বাজেয়াপ্তই নয়, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জেল-সহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের অবস্থান যে একেবারেই আপসহীন, তা বিধানসভার বক্তব্যে ফের স্পষ্ট করেন তিনি।
একইসঙ্গে কাটমানি প্রসঙ্গ তুলে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে (Firhad Hakim) নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “টাকা নিতে নিতে সিটি অফ জয় কলকাতাকে মৃত্যুপুরী বানিয়েছে তৃণমূল সরকার। এটা আপনাদের পাপের ফল। একাধিক দুর্ঘটনা থেকে কোনও শিক্ষা নেননি।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, তারাতলার ওই গোডাউনের অনুমোদিত প্ল্যানে ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষরও রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “প্ল্যানের অনুমোদনে আমিনুর শেখ (সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার), নির্মলেন্দু সরকার (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার), রঞ্জন দাসের (কার্যনির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার) সই রয়েছে। রয়েছে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই। কাউকে ছাড়া হবে না।”
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “কলকাতা পুরসভায় কী হয়েছে আমরা জানি না? কালীকে ধরলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। কালী না বললে কোনও প্ল্যান হয় না। কালীই বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে। এফআইআর হয়েছে, ব্যবস্থা নিচ্ছি।” এছাড়াও তারাতলা দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, কলকাতা পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থার ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁদের ধন্যবাদ জানান তিনি। এদিকে সূত্রের খবর, ‘কালী’ নামে যাঁর উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর পুরো নাম কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজ্য সরকারের কর্মী এবং ফিরহাদ হাকিম মেয়র থাকাকালীন তাঁর ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।



