রাজ্য

তারাতলা বিপর্যয়: ‘কাউকে ছাড়া হবে না’, ফিরহাদের সই দেখিয়ে বিধানসভায় কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর!

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

তারাতলা বিপর্যয়: ‘কাউকে ছাড়া হবে না’, ফিরহাদের সই দেখিয়ে বিধানসভায় কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর! - West Bengal News 24

তিলোত্তমায় ফের এক মারাত্মক বিপর্যয়। তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও ২০ জন নাগরিক। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার চরম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উত্তেজনা তৈরি হলো রাজ্য রাজনীতিতে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিলেন, এই ঘটনার পিছনে থাকা কোনো অপরাধীকে রেয়াত করা হবে না। কলকাতা পুরসভার তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম থেকে শুরু করে দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার— কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে প্রত্যেককে।

বিল্ডিং প্ল্যানে ফিরহাদ হাকিম ও পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের সই দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “টাকা নিতে নিতে সিটি অফ জয় কলকাতাকে মৃত্যুপুরী বানিয়েছে তৃণমূল সরকার। কাউকে ছাড়া হবে না।”

আরও পড়ুন :: নবান্নে হাইভোল্টেজ বৈঠক! শিল্প করিডর থেকে পর্যটন – বাংলার মেগা উন্নয়নে এবার একাধিক প্রস্তাব এডিবির

তারাতলার যে গোডাউনটি ভেঙে পড়েছে, তার অনুমোদন ঘিরে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি ওই গোডাউন প্ল্যানে অনুমোদন দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা (KMC)।

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথ্যপ্রমাণ সহ দাবি করেন, ওই নথিতে তৎকালীন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্পষ্ট স্বাক্ষর রয়েছে। প্রাক্তন মেয়রের পাশাপাশি পুরসভার একাধিক শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ারও এই বেআইনি কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর।

মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় স্পষ্ট জানান, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পূর্বতন সরকারের দুর্নীতির এক চরম খেসারত। এদিনের ভাষণে তিনি সরাসরি দায়ীদের নাম উল্লেখ করে বলেন, প্ল্যানের অনুমোদনে যুক্ত ছিলেন:

  • আমিনুর শেখ (সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার)

  • নির্মলেন্দু সরকার (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার)

  • রঞ্জন দাস (কার্যনির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার)

মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “এখানে প্রাক্তন মেয়রের সই আছে। যারা এই পাপের সাথে যুক্ত, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। আইন নিজের পথে চলবে।” ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন :: তনয় শাস্ত্রীর দায়ের করা এফআইআরে আপাতত স্থগিতাদেশ, হাই কোর্টে স্বস্তি পেলেন মিমি চক্রবর্তী

বিপর্যয়ের পর কলকাতা পুরসভার জরুরি পরিকাঠামো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজের জন্য পুরসভার কাছে কোনো অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিই নেই।

পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “সেনা ডাকা হয়েছে। বিহার রেজিমেন্ট আধুনিক যন্ত্র নিয়ে এসে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।” পাশাপাশি উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য সেনাবাহিনী, NDRF, কলকাতা পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্স বাহিনীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তিনি। মৃত ও আহতদের জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আর্থিক সাহায্যেরও ঘোষণা করা হয়েছে।

কলকাতার বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের নেপথ্যে এক বিশাল দুর্নীতির চক্র সচল ছিল বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই চক্রের মূল পান্ডা হিসেবে ‘কালী’ নামের এক ব্যক্তির নাম জড়িয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি: “কলকাতা পুরসভায় কী খেলা হয়েছে আমরা সব জানি। এই ‘কালী’-কে ধরলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। কালী না বললে কোনো প্ল্যান পাস হতো না। এমনকি বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবনও এই কালীই বানাচ্ছে। ওর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) হয়েছে, কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

🔍 এক নজরে তারাতলা ট্র্যাজেডি:

  • ঘটনা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে বিপর্যয়।

  • ক্ষতিগ্রস্ত: ৯ জনের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ২০ জন।

  • অভিযুক্ত: প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও ৩ জন পুর-ইঞ্জিনিয়ার।

  • বর্তমান অ্যাকশন: ৫ জন গ্রেফতার, উদ্ধারকাজে মোতায়েন ভারতীয় সেনা ও NDRF।

আরও পড়ুন ::

Back to top button