টিকিট পাইয়ে দিতে ৪০ লাখের প্রতারণা! অভিষেক-ঘনিষ্ঠ সুমিত রায় ও আইপ্যাক কর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়কে ঘিরে আরও এক বিতর্ক সামনে এল। পাশাপাশি আইনি জটিলতায় জড়ালেন আইপ্যাকের অন্যতম কর্তা প্রতীক জৈনও। বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৪০ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগে কৃষ্ণনগর জেলা ও দায়রা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক তৃণমূল নেতা।
শুধু সুমিত রায় ও প্রতীক জৈনই নন, এই ঘটনায় আইপ্যাকের (I-PAC) এজেন্ট রিঙ্কি মল্লিকের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীর আইনজীবীর দাবি, আদালত ইতিমধ্যেই মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে শুনানি শুরু হতে পারে।
যদিও অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে, তাঁর আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নদিয়ার পলাশিপাড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী করার আশ্বাস দিয়ে তাঁর মক্কেলের কাছ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ওই কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থী হিসেবে রুকবানুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন :: পাহাড়-সমুদ্রে দুর্ঘটনায় আর ভয় নেই! পর্যটকদের জন্য ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ছে শুভেন্দু সরকার
আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কল প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সেই কারণেই পুরো ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরের নানা অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। দলের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। একইসঙ্গে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের ভূমিকাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বিভিন্ন এলাকা থেকে নির্বাচনের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে একাধিক নেতা অভিযোগ তুলেছেন। সেই অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে আইপ্যাকের শীর্ষস্তরের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরাসরি আদালতে মামলা দায়ের হওয়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও জমি জালিয়াতি এবং মাটি চুরির অভিযোগে সুমিত রায়ের নাম সামনে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পাশাপাশি সিআইডির পক্ষ থেকেও লুক আউট নোটিস জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এবার বিধানসভার টিকিট দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে তাঁর নাম জড়ানোয় নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে এই মামলায় কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



