রাজ্য

“পরিবর্তন ভাল লাগছে তো?” তারকেশ্বরে দাঁড়িয়ে বঙ্গবাসীকে প্রশ্ন মোদির! শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে ইতিহাস স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

“পরিবর্তন ভাল লাগছে তো?” তারকেশ্বরে দাঁড়িয়ে বঙ্গবাসীকে প্রশ্ন মোদির! শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে ইতিহাস স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর - West Bengal News 24

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই প্রথম বিপুল উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হলো ঐতিহাসিক ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ (West Bengal Day)। আর এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে শনিবার রাজ্যে পা রাখলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। হুগলির তারকেশ্বরের সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে একদিকে যেমন তিনি রাজ্যের নতুন ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করলেন, তেমনই পূর্বতন তৃণমূল ও বাম সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ও রাজ্যপাল আর এন রবির উপস্থিতিতে মোদির এই হাই-ভোল্টেজ সভা ঘিরে এখন তোলপাড় বাংলার রাজনীতি।

শনিবার দুপুরে দমদম বিমানবন্দরে নামার পর কপ্টারে করে বিকেল ৪টের কিছু পরে তারকেশ্বরের সভাস্থলে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আরএন রবি। বাংলার চিরাচরিত আতিথেয়তায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কোনও খামতি রাখেনি নতুন রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন :: ১ জুলাই থেকেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কারা পাবেন? জেনে নিন বিস্তারিত

প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়:

  • ডোকরার তৈরি অপরূপ দুর্গামূর্তি

  • বাবা তারকনাথের ছবি

  • বাংলার বিখ্যাত রসগোল্লা ও জলভরা সন্দেশ

মঞ্চের আবহ: ভাষণের শুরুতেই ‘জয় বাবা তারকনাথ’ এবং ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি তোলেন মোদি। তিনি আবেগঘন সুরে বলেন, “রাজ্যে ভোট ও শপথগ্রহণের পর এই প্রথম এলাম। বাংলার বাতাসে এখন এক নতুন সুগন্ধ পাচ্ছি, যেন বাংলা আজ বেড়ি ভেঙে স্বাধীন হয়েছে!”

নতুন সরকারের আমলে ২০ জুন দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এদিনের মঞ্চ থেকে সেই ইতিহাসের কথাই বারবার মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাশ হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন: ১. ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (যাঁর নেপথ্য ভূমিকা ছিল অপরিসীম) ২. মেঘনাদ সাহাসুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ৩. মতুয়া ঠাকুরদের অসামান্য অবদান

রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার যে দ্বিগুণ গতিতে উন্নয়নের কাজ করছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে এদিনই রেল, কৃষি এবং মৎস্যপালন দপ্তরের প্রায় ৮২০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দেন, কেন্দ্রের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ নীতি এবার বাংলায় প্রকৃত উন্নয়ন নিয়ে আসবে। পাশাপাশি, পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দিয়ে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ কর্মসূচির জন্য রাজ্যবাসীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন তিনি।

বক্তব্যের মাঝেই পূর্বতন সরকারদের দিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান নরেন্দ্র মোদি। বিগত তৃণমূল এবং তার আগের সিপিএম সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন:

  • আগের সরকারগুলি ইতিহাসকে বিকৃত করেছে এবং তোষণনীতির রাজনীতি করে বাংলার শুধু ক্ষতিই করেছে।

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের এই পুণ্যভূমিতে জোর করে ‘বিদেশি চিন্তাধারা’ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

  • বর্তমানে মানুষ বিজেপিকে আশীর্বাদ করায় এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর অপচেষ্টা রুখে দেওয়ায় সেই অন্ধকার অবশেষে দূর হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে তারকেশ্বরের নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল টিম। তবে নজর কেড়েছিল সভাস্থলের জমকালো সাজসজ্জা। মূল মঞ্চ সাজাতে ব্যবহার করা হয়েছিল দেশ-বিদেশের নামী দামি ফুল, যার মধ্যে ছিল:

  • থাইল্যান্ডের অ্যান্থোরিয়াম

  • উটির জারবেরা ও লিলি

  • পাঁচ রকমের গোলাপ, ব্লু ডেইজ়ি, রজনীগন্ধা ও গাঁদা

শুধু তাই নয়, সভাস্থলের দু’পাশে পাঁচটি বিশাল হ্যাঙারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। চারপাশের দেওয়ালে ফুটে উঠেছিল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হলুদ ট্যাক্সি, টানা রিকশা, দক্ষিণেশ্বর মন্দির এবং বেলুড় মঠের ছবি। যেন তারকেশ্বরের বুকেই তৈরি হয়েছিল আস্ত এক টুকরো তিলোত্তমা।

প্রসঙ্গত, এ রাজ্যে আসার আগেই শনিবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলার সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, বিজ্ঞান ও সমাজ সংস্কারে এখানকার মানুষের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। আর তারকেশ্বরের সভার শেষে উপস্থিত লক্ষাধিক মানুষের মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে এক অভিনব উপায়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের ডাক দেন মোদি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, তারকেশ্বরের এই সভা শুধু একটা উদ্‌যাপন ছিল না, বরং লোকসভা বা বিধানসভা পরবর্তী পর্বে বাংলার এক নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের রূপরেখাই তৈরি করে দিয়ে গেল।

আরও পড়ুন ::

Back to top button