
এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসে তাঁর সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। দলের অন্দরে তাঁর সম্মতি ছাড়া কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কার্যত কল্পনাই করা যেত না। তবে এবার সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেয়ারপার্সনের পদ নিয়েই বড় দাবি তুললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, সোমবার অনুষ্ঠিত দলের বিশেষ অধিবেশনে নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা হয়েছে এবং সেই কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন অরূপ রায়। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে তিনিই এখন দলের চেয়ারপার্সনের দায়িত্বে রয়েছেন বলে দাবি ঋতব্রতর। তাঁর দাবি, সম্পূর্ণ সাংগঠনিক নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যদিও কালীঘাটের তরফে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতি এবং একাধিক সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ঋতব্রত শিবিরের অভিযোগ, ওই কমিটিগুলির কোনও সাংগঠনিক বৈধতা নেই। তাঁদের দাবি, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বিভিন্ন পদে মনোনয়ন করা হয়েছে এবং তা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়নি।
আরও পড়ুন :: 🔥 সাবধান! রাস্তায় থুতু বা প্লাস্টিক ফেললেই জরিমানা, ছবি তুলে সরাসরি বাড়ি পাঠানো হবে নোটিস! জেনে নিন নয়া নিয়ম
ঋতব্রত ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ২০২২ সালের পর থেকে নিয়ম অনুযায়ী বিশেষ অধিবেশন ডেকে জাতীয় কর্মসমিতি নির্বাচন করা হয়নি। ফলে বর্তমানে প্রচলিত কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে বলে তাঁদের মত।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা এদিন বলেন, “আমরা আজ অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে পাহাড় থেকে সাগর বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা আজকের বিশেষ অধিবেশনে ছিলাম। এই অধিবেশনে এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে।”
এই অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় কর্মসমিতিতে ৩০ জন সদস্য থাকবেন এবং তাঁরাই ভবিষ্যতে রাজ্য কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবেন। নতুন কাঠামোয় দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে অরূপ রায়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সহ-সভাপতির পদে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস-সহ আরও কয়েকজন নেতা। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে।
এছাড়াও জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার থেকেই নতুন মুখপাত্রদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। তাঁরাই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরবেন। ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য, “আজকের যা যা সিদ্ধান্ত হয়েছে, সবটা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের সাংগঠনিক বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ঋতব্রত নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী। একইসঙ্গে তৃণমূলের প্রকৃত নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিতও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



