রাজ্য

উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই তারাতলায় পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, নিলেন পরিস্থিতির খোঁজ

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই তারাতলায় পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, নিলেন পরিস্থিতির খোঁজ - West Bengal News 24

তারাতলার ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান যখন জোরকদমে চলছে, ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকেল প্রায় পৌনে পাঁচটা নাগাদ তিনি তারাতলায় যান। সেখানে পৌঁছে প্রথমেই উপস্থিত মন্ত্রী ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে উদ্ধারকাজে যুক্ত কর্মীদের কাছ থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য নেন। নির্মাণকাজের দায়িত্বে কারা ছিলেন, কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল এবং উদ্ধারকাজ কতদূর এগিয়েছে সেই সমস্ত বিষয়েও খোঁজখবর করেন মুখ্যমন্ত্রী।

জানা গিয়েছে, বন্দরের জমির উপর নির্মিত হচ্ছিল একটি চায়ের গুদাম। বুধবার সেখানে তিনতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় আচমকাই ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ কাঠামোর ছাদ। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান একাধিক শ্রমিক।

আরও পড়ুন :: কলকাতার রাস্তায় এবার ‘মুঘল-পাঠান’ যোগ বাদ? সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদল ঘিরে তোলপাড় বিধানসভা! কার্তিক মহারাজের নেতৃত্বে তৈরি হলো বিশেষ কমিটি

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয় অত্যাধুনিক গ্যাস কাটার, ক্রেনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে মোতায়েন করা হয় একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিধায়ক রাকেশ সিং, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অগ্নিমিত্রা পাল, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। এদিকে শুরু থেকেই নবান্ন থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।

উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই তারাতলায় পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, নিলেন পরিস্থিতির খোঁজ - West Bengal News 24

ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি ১২ থেকে ১৮ জন শ্রমিক এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারে সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন :: 💥 বিজিবিএসের নামে কোটি কোটি টাকার মহা-দুর্নীতি! বিধানসভায় ফাইল খুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ‘স্বাক্ষর’ দেখালেন শুভেন্দু!

উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার পর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ঘটনাস্থলে আনা হয় অত্যাধুনিক গ্যাস কাটার, ভারী ক্রেন এবং অন্যান্য উদ্ধার সরঞ্জাম। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক অ্যাম্বুল্যান্সও মোতায়েন করা হয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবান্নের তরফে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে কয়েকটি হেল্পলাইন নম্বর। সেগুলি হল— 1070, 8697981070, 033 22143526 এবং 033 22535185।

অন্যদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। প্রিয়জনদের খোঁজে উৎকণ্ঠায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় অনেককেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই ঘটনার জন্য তৃণমূলের দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নিয়ম না মেনেই গুদাম নির্মাণের কাজ চলছিল। কাটমানির বিনিময়ে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যাঁদের এই ধরনের নির্মাণকাজে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছিল না। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। স্থানীয়দের দাবি, এ বিষয়ে আগেই পোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন ::

Back to top button