রাজ্য

রাজনৈতিক ক্যাডার নয়, নিরপেক্ষ প্রশাসনের বার্তা শুভেন্দুর! তৃণমূলকে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাজনৈতিক ক্যাডার নয়, নিরপেক্ষ প্রশাসনের বার্তা শুভেন্দুর! তৃণমূলকে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর - West Bengal News 24

প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের ডব্লুবিসিএস (এক্সিকিউটিভ) আধিকারিকদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই নিজের সরকারের প্রশাসনিক নীতি স্পষ্ট করে দেন তিনি। সূত্রের খবর, পূর্ববর্তী সরকারের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর সরকার কোনওভাবেই প্রশাসনিক আধিকারিকদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে না। অতীতের মতো অফিসারদের রাজনৈতিক ক্যাডারে পরিণত করার কোনও প্রশ্নই নেই। বরং সরকারি পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে যেন রাজনৈতিক বিভাজনের কোনও প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে আধিকারিকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, অতীতে যে প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। একইসঙ্গে আধিকারিকদের পেশাগত মর্যাদা এবং সিনিয়রিটির যথাযথ সম্মান বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। প্রশাসনিক আচরণ এবং পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার দায়িত্ব সরকারের বলেও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। পাশাপাশি, প্রশাসনের উন্নতির স্বার্থে আধিকারিকদের খোলামেলা মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন :: 💥 ব্রেকিং নিউজ: পুলিশের জালে অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজ! পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর

বুধবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ডব্লুবিসিএস (এক্সিকিউটিভ) আধিকারিকদের বৈঠকে প্রশাসনিক সংস্কারের উপর জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, তিনি বলেন, অতীতে ভয় কিংবা রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেক নিম্নস্তরের আধিকারিক নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেননি। আবার অনেক ক্ষেত্রেই কেউ কেউ নিয়মের তোয়াক্কা না করেই কাজ করেছেন। বর্তমান সরকারের আমলে এমন পরিস্থিতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করাই হবে মূল লক্ষ্য।

শুভেন্দুর মতে, দীর্ঘদিন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে কাজ করার ফলে অনেক অভ্যাস তৈরি হয়েছে, যা এখন বদলানোর সময় এসেছে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য জনকল্যাণ, আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রশাসনিক আধিকারিকদেরই। কোনও রাজনৈতিক পক্ষ না দেখে সাধারণ মানুষের স্বার্থেই কাজ করতে হবে বলে বার্তা দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যে আধিকারিক দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, তিনিই প্রশাসনের কাছে সেরা হিসেবে বিবেচিত হবেন। কাজের মূল্যায়নের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এই প্রসঙ্গে এসিআর (ACR) প্রক্রিয়া আরও সহজ করার বিষয়েও আধিকারিকদের অবহিত করেন।

এছাড়াও তিনি জানান, রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পকে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পের আদলে আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই নতুন পে কমিশন কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

একইসঙ্গে ডব্লুবিসিএস (এক্সিকিউটিভ) আধিকারিকদের বদলির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের এককালীন বিশেষ ভাতা ৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই সমস্ত কাজ হবে এবং আর্থিক অনিয়মের ক্ষেত্রে সরকার কোনওরকম আপস করবে না। সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি, কোনও প্রকল্পে যেন দুর্নীতির সুযোগ না থাকে, সে বিষয়েও কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

আরও পড়ুন ::

Back to top button