নরেন্দ্রপুরে শিউরে ওঠার মতো বর্বরতা! বিজেপি সমর্থক মহিলাকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে মার, ন্যাড়া করা হলো মাথা, গ্রেপ্তার ১
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরে এক বিজেপি (BJP) সমর্থক মহিলার ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতার অভিযোগ উঠল। জমি বিবাদ ও তোলাবাজির প্রতিবাদ করায় ওই মহিলাকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে বেধড়ক মারধর, মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া এবং ব্লেড দিয়ে জিভ কাটার চেষ্টার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। কাঠগড়ায় সোনারপুর উত্তরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ফিরদৌসি বেগমের অনুগামীরা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই টালিগঞ্জ থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলা এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। জানুন ঠিক কী ঘটেছিল।
আক্রান্ত বিজেপি সমর্থক দম্পতির দাবি, এই অত্যাচারের ইতিহাস কিন্তু নতুন নয়। ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের মে মাস থেকে।
অভিযোগের তির: রাজপুর-নরেন্দ্রপুর পুরসভার পশ্চিম নিশ্চিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা ওই দম্পতির অভিযোগ, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ফিরদৌসি বেগমের অনুগামীরা তাঁদের জমি দখলের চেষ্টা করছিল।
তোলাবাজি: জমি ছাড়ার জন্য বা সেখানে থাকার জন্য দম্পতির কাছে ৭৫, হাজার টাকা তোলা দাবি করা হয়।
বাড়ি ছাড়া পরিবার: তোলা দিতে রাজি না হওয়ায় দিনের পর দিন মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের ভয়ে সপরিবারে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন তাঁরা। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাড়ি ফিরলেও রেহাই মেলেনি।
আরও পড়ুন :: তৃণমূলের ৩ প্রাক্তনকে রাজ্যসভার টিকিট বিজেপির! ‘তৃণমূলীকরণ’ বিতর্কে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ, দিলেন বড় বার্তা
😱 ওড়না দিয়ে টেনে মাঠে নিয়ে যাওয়া, ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে অত্যাচার!
গত শুক্রবার দুষ্কৃতীদের অত্যাচারের সব সীমা পার হয়ে যায়। ঘটনার সময় ওই মহিলার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগেই ঘরে ঢোকে দুষ্কৃতীরা।
অত্যাচারের নারকীয় বিবরণ: মহিলার ছোট্ট মেয়ের সামনেই তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মা-কে বাঁচাতে মেয়ে কাঁদলে, তাকেও গরম খুন্তি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর মহিলার গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয় কাছের একটি মাঠে। সেখানে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে চলে চরম নির্যাতন। খুবলে চেঁচে দেওয়া হয় মাথার চুল। এখানেই শেষ নয়, পকেট থেকে ব্লেড বের করে ওই মহিলার জিভ কেটে নেওয়ারও চেষ্টা চালায় দুষ্কৃতীরা।
এই নারকীয় ঘটনার পর নরেন্দ্রপুর থানায় মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আক্রান্ত পরিবার। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।
শনিবার রাতভর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। জানা গেছে, ঘটনার পরেই এলাকা ছেড়ে কলকাতায় পালিয়ে এসে শ্বশুরবাড়িতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন অন্যতম মূল অভিযুক্ত তারিফ উদ্দিন। অবশেষে মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে টালিগঞ্জ এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
আক্রান্ত পরিবারের স্বামী আক্ষেপের সুরে জানান, “এই অত্যাচার নতুন নয়। এখন সরকার বদলালেও এলাকায় এদের গুন্ডামি কমেনি। আমি শুভেন্দু স্যারের (Suvendu Adhikari) কাছে অনুরোধ করছি, দয়া করে আমাদের বাঁচান।”
এই ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্যের বর্তমান গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: “ভোটের পর থেকে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। সমাজবিরোধীদের দাপট এখনও কমেনি। পুলিশের উচিত অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করা। আমরা এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়ব।”
অন্যদিকে, যাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে এই নৃশংসতার অভিযোগ, সেই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ফিরদৌসি বেগমের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার জেরে গোটা নরেন্দ্রপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।



