
কয়েকদিন আগেই জানা গিয়েছিল, বাংলার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চলেছে আদানি গোষ্ঠী। নিউটাউনে গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক মানের একটি হাসপাতাল। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবন থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, এই হাসপাতালেই দরিদ্রদের জন্য থাকবে বিশেষ পরিষেবার ব্যবস্থা। মোট ২০০০ বেডের মধ্যে ১০০০ বেড বরাদ্দ থাকবে গরিব মানুষের জন্য। খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের ভূমিপুজো হবে বলেও জানান তিনি।
গত শনিবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের একটি আলোচনাসভায় যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক ব্যবসায়ীও। সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে আদানি গোষ্ঠী।
আরও পড়ুন :: কৃষিভিত্তিক শিল্পে জোর, কাটোয়ার ৬০০ একর জমি নিয়ে বড় পরিকল্পনা রাজ্যের
তাঁর দাবি ছিল, এ বিষয়ে আদানির তরফে লিখিত প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। নিউটাউনে তৈরি হবে ২০০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল। সেদিনও তিনি জানিয়েছিলেন, এই হাসপাতালে দরিদ্রদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ওই হাসপাতালের ১০০০ বেড শুধুমাত্র গরিবদের জন্য রাখা হবে। বাকি ১০০০ বেড বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যবাসী বড় সুবিধা পাবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য শিল্পপতিদেরও বাংলায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “বাংলায় আসুন, শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করুন। এখানে বিনিয়োগ দরকার।”
প্রসঙ্গত, বহু বছর আগে সিঙ্গুর থেকে টাটা প্রকল্প সরে যাওয়ার পর বাংলায় বড় মাপের বিনিয়োগ কার্যত থমকে যায়। এরপর দীর্ঘদিন রাজ্যে বড় শিল্প বা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ হয়নি বলেই অভিযোগ। তৃণমূল আমলে রাজ্যের তরফে একাধিকবার বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।
সেই সম্মেলনে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগের মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে দাবি করেছিল তৎকালীন সরকার। তবে তার বাস্তব রূপ বাংলার মানুষ দেখতে পাননি বলে বিরোধীদের অভিযোগ। পালাবদলের পর রাজ্যে শিল্প এবং বিনিয়োগের পরিবেশ ফেরাতে সক্রিয় হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ইতিমধ্যেই দাদনপাত্রবারে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির ঘোষণা করেছেন তিনি। এ বিষয়ে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে বলে খবর। এবার নিউটাউনে স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও বিনিয়োগ করতে চলেছে আদানি গোষ্ঠী। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ভারতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এটি অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বিনিয়োগ হতে পারে।



