
পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষমেশ দখলমুক্ত হল অনুব্রত মণ্ডলের দলীয় কার্যালয়। মঙ্গলবার বিজেপির যুব সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা বোলপুর পুরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হন। এরপর মধ্যরাতে খুলে দেওয়া হয় অনুব্রতর তৃণমূলের জেলা কার্যালয়।
বিষয়টি নিয়ে ই-মেলের মাধ্যমে বীরভূম জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশি হস্তক্ষেপে কার্যালয়ের চাবি ফেরত পান তৃণমূল কর্মীরা। বুধবার সকাল থেকে কার্যালয়ে অল্প কয়েকজন কর্মী-সমর্থককে দেখা যায়। বিকেলের দিকে সেখানে যান অনুব্রত মণ্ডলও। তিনি বলেন, “বোলপুরে দলীয় কার্যালয় মন্দিরের মতো। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।”
আরও পড়ুন :: হাজরায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি! নিজের দলের কর্মীকেই সপাটে চড় মারলেন মমতা? তোপ সুকান্তর
রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগেই বোলপুরে এই দলীয় কার্যালয় ছিল। তবে ক্ষমতায় আসার পর কার্যালয়টিকে নতুনভাবে সাজানো হয়। এটি মূলত অনুব্রত মণ্ডলের কার্যালয় হিসেবেই পরিচিত। এই অফিস থেকেই একসময় বীরভূম জেলার সংগঠন সামলাতেন বোলপুরের ‘কেষ্ট’। কোন থানায় কে ওসি হবেন, কোন ঠিকাদার কোন কাজের টেন্ডার পাবেন এসব নিয়েও এখান থেকেই সিদ্ধান্ত হত বলে অভিযোগ।
এমনকি প্রশাসনিক কাজেও পরোক্ষে নির্দেশ যেত বলে দাবি করা হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই প্রভাব এখন অতীত। তবে বিজেপির যুব সংগঠনের সদস্যদের অভিযোগ, বোলপুর শহরের ২২টি ওয়ার্ডে নাগরিক পরিষেবা ঠিকমতো মিলছে না।
তাদের দাবি, পুরসভা দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছে। কাউন্সিলরদেরও এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ, এখনও বোলপুরের তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকেই কাউন্সিলরদের নাগরিক পরিষেবা না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে বিজেপির যুব সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও বোলপুরে তৃণমূলের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।
তবে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে তালা লাগানোর পর মধ্যরাতে বোলপুরের মহকুমা শাসক অর্পিত আর পারেখের নির্দেশে তৃণমূল কর্মীদের ডেকে কার্যালয়ের চাবি ফিরিয়ে দেয় পুলিশ বলে জানা গিয়েছে। এরপর ফের চালু হয় অনুব্রত মণ্ডলের বোলপুরের তৃণমূল কার্যালয়। তবে এই বিষয়ে বোলপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল কোনও মন্তব্য করতে চাননি।



