শুভেন্দু জমানায় চিকিৎসা-বিপ্লব! শান্তিনিকেতনে এইমসের আদলে মেডিক্যাল কলেজ গড়ার উদ্যোগ বিশ্বভারতীর, আশায় বীরভূমবাসী
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

চিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে বিশ্বভারতী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে এইমসের ধাঁচে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু শিক্ষা নয়, স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও নতুন দিশা মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বদলে যেতে পারে গোটা বীরভূম জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার ছবিও। ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগ ঘিরে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পড়ুয়া ও অভিভাবকেরা। প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানের নাম হতে পারে ‘বিশ্বভারতী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল’। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় মেডিকেল কমিশন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এই বিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, “বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে একত্রিতকরণ করেই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলার। ইতিমধ্যেই প্রাথমিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। তবে পরিষেবা উন্নত মানের চিকিৎসা পাবেন সর্বস্তরের মানুষ। আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের পড়ুয়ারাও সমৃদ্ধ হবেন।”
আরও পড়ুন :: মা ক্যান্টিনে এবার ৫ টাকায় মাছ-ভাত! বিরোধী খোঁচা উড়িয়ে ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বোলপুর-শান্তিনিকেতন এলাকায় উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার অভাব নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি চিকিৎসার জন্য একসময় স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও শান্তিনিকেতন ছেড়ে কলকাতায় যেতে হয়েছিল। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই এলাকায় বহু বিশিষ্ট মানুষের বসবাস থাকলেও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার অভাবে সমস্যায় পড়তে হয়েছে অনেককেই। অতীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রাক্তন সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ও সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শেষ জীবনে চিকিৎসার প্রয়োজনে শান্তিনিকেতন ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। কোভিড পরিস্থিতির সময়েও প্রবীণ আশ্রমিকদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছিল। তাই বিশ্বভারতীতে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে উঠলে এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আসবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
বর্তমানে বিশ্বভারতীতে পড়ুয়া ও কর্মীদের জন্য দুটি হাসপাতাল রয়েছে পিয়ার্সন মেমোরিয়াল হাসপাতাল এবং দীনবন্ধু এন্ড্রুজ মেমোরিয়াল হাসপাতাল। বিশ্বভারতী সূত্রে দাবি, ভবিষ্যতে এই দুই হাসপাতালকেও প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে। অর্থাৎ, অনুমোদন মিললেই শান্তিনিকেতনে শুরু হতে পারে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পঠনপাঠন। ইতিমধ্যেই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ার অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন বীরভূম জেলার সাধারণ মানুষ।



