অনুব্রত-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়িতে টাকার পাহাড়! আনা হলো ৫টি নোট গোনার যন্ত্র ও ট্রাঙ্ক
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

birbhum news, deucha police raid, tulu mondal, minar mondal cash gold recovery: বীরভূমের দেউচায় মধ্যরাতের মেগা রেইড! গরু পাচার মামলা ও বেআইনি পাথর খাদান কাণ্ডে নাম থাকা কেষ্ট-ঘনিষ্ঠ টুলু মণ্ডলের এক আত্মীয়ের বাড়িতে হানা দিল পুলিশ। সরকারি বাসের চালক হয়েও কীভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক? গভীর রাতের অভিযানে থরে থরে সাজানো নগদ টাকা আর কেজি কেজি সোনা দেখে তাজ্জব তদন্তকারীরা। রাত পার হয়ে সকাল গড়ালেও এখনও শেষ হয়নি তল্লাশি, টাকা গুনতে আনা হয়েছে একাধিক মেশিন। জানুন পুরো ঘটনা।
মধ্যরাতে ঘেরাও বাড়ি! সাঁড়াশি অভিযানে দেউচায় চাঞ্চল্য
মঙ্গলবার গভীর রাতে আচমকাই থমথমে হয়ে ওঠে বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার দেউচা এলাকা। অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িটি ঘাট বাঁধে পুলিশের একটি বিশাল টিম।
আরও পড়ুন :: নিটে সফল ১০০ কৃতীকে সংবর্ধনা মুখ্যমন্ত্রীর, ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা
মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলেন তদন্তকারীরা। এর পরেই শুরু হয় ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান। পুলিশ সূত্রের খবর, ভেতরে ঢুকতেই তদন্তকারীদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়। ঘরের কোণে কোণে সাজানো ছিল বান্ডিল বান্ডিল নোট।
সরকারি বাসের চালকের বাড়িতে ৩০ কোটি নগদ! থরে থরে সাজানো কেজি কেজি সোনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মিনার মণ্ডল পেশায় একজন সরকারি বাসের চালক। তবে একই সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন টুলু মণ্ডলের পাথর ব্যবসার সঙ্গেও। টুলুর একাধিক খাদানের হিসাব-নিকাশও সামলাতেন এই মিনার।
সূত্রের দাবি, তল্লাশি অভিযানে এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৩০ থেকে ৩২ কোটি টাকা নগদ এবং প্রায় ৮ থেকে ১০ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। এক জন সাধারণ বাস চালকের কাছে এত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কোথা থেকে এলো, তা নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে এলাকা জুড়ে।
টাকা গুনতে আনা হলো ৫টি মেশিন, সঙ্গে দুটি বিশাল ট্রাঙ্ক!
উদ্ধার হওয়া টাকার পাহাড় এতটাই বিশাল যে তা হাত দিয়ে গোনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয় ৫টি আধুনিক নোট গোনার যন্ত্র।
এর পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অঢেল নগদ টাকা ও সোনা বাজেয়াপ্ত করে সুরক্ষার সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশকে দুটি বড় সাইজের ট্রাঙ্কও আনাতে হয়েছে। রাত পেরিয়ে দিন হলেও এখনও পর্যন্ত উদ্ধার কাজ ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত। তবে এ বিষয়ে বীরভূম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন :: ১ ফোনেই সমাধান! কাটমানি ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রুখতে কড়া পদক্ষেপ, চালু নতুন ৪ হেল্পলাইন
সিবিআই-ইডি স্ক্যানারে থাকা টুলু মণ্ডল কে?
বীরভূমের রাজনীতি ও ব্যবসার জগতে টুলু মণ্ডল একটি পরিচিত নাম। একসময় তৃনমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের (কেষ্ট) অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে গণ্য করা হতো তাঁকে।
অভিযোগের পাহাড়: টুলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি পাথর খাদান চালানো এবং গরু পাচার মামলায় যোগসূত্রের অভিযোগ রয়েছে।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজর: ২০২২ সালে সিবিআই ও ইডির (ED) আতশকাঁচের নিচে ছিলেন এই ব্যবসায়ী। সেই সময় তাঁর একাধিক বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছিল।
রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের পর পুলিশি এই মেগা রেইডে টুলুর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের পর প্রশ্ন উঠছে— এই কোটি কোটি টাকা কি তবে টুলু মণ্ডলেরই গোপন সাম্রাজ্যের অংশ?
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোর রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে বীরভূমে। পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলে সরব হয়েছে বিজেপি।
সাঁইথিয়ার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা কটাক্ষ করে বলেন: “রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে। চোর, ডাকাত ও সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ হচ্ছে। যাঁরা একসময় বলেছিলেন ‘খেলা হবে’, তাঁরা এখন দেখতে পাচ্ছেন আসল খেলা কাকে বলে। আমি দাবি জানাচ্ছি, এই দুর্নীতির সমস্ত টাকা অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করা হোক এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হোক।”



