উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রীর হেলিপ্যাডে ‘আর্মি’ লেখা গাড়ি, তৃণমূল নেতার ছেলেকে ঘিরে উত্তেজনা
ওয়েবডেস্ক

উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য নির্ধারিত হেলিপ্যাডে ‘আর্মি’ লেখা একটি গাড়ি ঢোকাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল। একাধিক প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, গাড়িতে ছিলেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি দিলীপ রায়ের ছেলে বাপি রায়। তাঁকে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের বচসা হয়।
ঘটনাটি ঘটে উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রীর বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত বৈঠকের সময়। রিপোর্ট অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে হেলিপ্যাডের কাছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় একটি সাদা চারচাকা গাড়ি হেলিপ্যাড চত্বরে ঢুকে পড়ে।
প্রকাশিত সংবাদরিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ‘আর্মি’ লেখা গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বাপি রায়। তিনি তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি দিলীপ রায়ের ছেলে বলে ওই রিপোর্টগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়িটি হেলিপ্যাডে ঢোকার পর সেখানে উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ তাঁকে বাধা দেন এবং গাড়িটিকে ঘিরে ফেলেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করে। গাড়িটিকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বচসা শুরু হয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় গাড়িটি বের করে দেওয়ার সময়। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিজেপির এক কর্মী দলীয় পতাকা লাগানো বাঁশ দিয়ে গাড়িটির পিছনের দিকে আঘাত করেন। এরপর ঘটনাস্থলে উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বচসা চলতে থাকে।
তবে এই ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারের তথ্য সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে নিরাপত্তা। কারণ জায়গাটি মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত হেলিপ্যাড। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই এলাকায় ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই অবস্থায় একটি গাড়ি কীভাবে হেলিপ্যাড চত্বরে ঢুকল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
তবে গাড়িটি কী কারণে সেখানে ঢুকেছিল, চালককে আগে থেকে কোনও অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না, অথবা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোন স্তর পেরিয়ে গাড়িটি ভিতরে পৌঁছেছিল—এই প্রশ্নগুলির কোনও সরকারি ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি।
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, উত্তরবঙ্গ সফরে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরকন্যায় বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত বৈঠকের পাশাপাশি তাঁর আরও কিছু কর্মসূচি ছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে কালিম্পংয়ের কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনতে হয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হেলিপ্যাডের ঘটনাটির পর মুখ্যমন্ত্রী সড়কপথে বাগডোগরা বিমানবন্দরের দিকে রওনা হন। সংবাদরিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে ওঠেননি; তাঁর রওনা হওয়ার আগেই হেলিকপ্টারটি সেখান থেকে উড়ে যায়।
প্রকাশিত রিপোর্টগুলিতে বাপি রায়কে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি দিলীপ রায়ের ছেলে হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে। তবে হেলিপ্যাডে তাঁর প্রবেশের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাঁর কোনও বক্তব্য বা প্রশাসনের কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি।
ফলে ঘটনাটির রাজনৈতিক দিক নিয়ে জল্পনা থাকলেও, উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য এখনও প্রকাশ্যে নেই।
এই ঘটনার পর মূলত তিনটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—প্রথমত, নিরাপত্তা-সংবেদনশীল হেলিপ্যাডে গাড়িটি কীভাবে প্রবেশ করল; দ্বিতীয়ত, গাড়িটির প্রবেশের কোনও অনুমতি ছিল কি না; এবং তৃতীয়ত, ঘটনার পর প্রশাসন বা পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয়।
এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর মিললেই উত্তরকন্যার হেলিপ্যাড-কাণ্ডের পূর্ণ চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। আপাতত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, একটি ‘আর্মি’ লেখা গাড়ির হেলিপ্যাডে প্রবেশকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মী-সমর্থক, পুলিশ এবং গাড়ির যাত্রীকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
FAQ
উত্তরকন্যায় কী ঘটেছিল?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য নির্ধারিত হেলিপ্যাডে ‘আর্মি’ লেখা একটি গাড়ি ঢোকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মী-সমর্থক ও পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়।
গাড়িতে কে ছিলেন?
প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, গাড়িতে ছিলেন বাপি রায়। তাঁকে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি দিলীপ রায়ের ছেলে হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাড়িতে ‘আর্মি’ লেখা ছিল কেন?
গাড়িতে ‘আর্মি’ লেখা থাকার কথা একাধিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কেন এমন লেখা ছিল বা গাড়িটি কোনও সরকারি/সামরিক গাড়ি কি না, তা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
হেলিপ্যাডে গাড়িটি কীভাবে ঢুকল?
এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা-বেষ্টনী থাকা সত্ত্বেও গাড়িটি কীভাবে সেখানে পৌঁছল, সেটিই ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
মুখ্যমন্ত্রী কি ওই হেলিকপ্টারে উঠেছিলেন?
না। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী সড়কপথে বাগডোগরা বিমানবন্দরের দিকে রওনা হন এবং তাঁর রওনা হওয়ার আগেই হেলিকপ্টারটি হেলিপ্যাড থেকে উড়ে যায়।



