রামপুরহাটে পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ, সুইসাইড নোটে বিস্ফোরক অভিযোগ
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বীরভূমের রামপুরহাটে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হলো রাজ্যের প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ। রবিবার সকালে এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ এক পাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যার ছত্রে ছত্রে উঠে এসেছে চরম হতাশা, অপমান এবং রাজনীতির প্রতি অনীহার কথা।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে বর্ষীয়ান এই নেতার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ এবং দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের শুরুর সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তৃণমূল সরকারের আমলে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে তিনি এই কেন্দ্র থেকে পরাজিত হন।

পুলিশের হাতে আসা সুইসাইড নোটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সততা তুলে ধরে লিখেছেন, ছাত্রজীবন থেকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলি পর্যন্ত তিনি কখনও কোনও আর্থিক বা প্রশাসনিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কোনো কাজের বিনিময়ে কখনো একটি পয়সাও নেননি। পাশাপাশি তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ (টিআরডিএ)-এর প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, সাধারণ সভা ছাড়া কোনো টেন্ডার কমিটি, চেক ইস্যু কিংবা প্ল্যান পাসের মতো প্রশাসনিক বা আর্থিক প্রক্রিয়ায় তাঁর কোনো ভূমিকা ছিল না।
চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কালিমালিপ্ত ও অপমান করা হচ্ছিল। এই মানসিক যন্ত্রণা থেকেই চরম পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি লিখেছেন, “রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি পরিবারের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, তাঁর বংশের ছেলেরা যেন কোনোভাবেই রাজনীতিতে না জড়িয়ে নিজস্ব পেশাগত কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের আকস্মিক প্রয়াণ এবং সুইসাইড নোটে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে বীরভূমসহ গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চাপানউতোর।



