বাংলাদেশে জেলবন্দি সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, ভারতের হস্তক্ষেপের দাবিতে সরব তসলিমা নাসরিন
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বাংলাদেশে সনাতনী অধিকার রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম মুখ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস দীর্ঘ সময় ধরে জেলবন্দি। তাঁর অবিলম্বে মুক্তি ও ওপার বাংলায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার নয়াদিল্লির সক্রিয় হস্তক্ষেপের দাবি তুললেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
সংখ্যালঘু অধিকারের লড়াই ও গ্রেপ্তারি
২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক হামলার প্রতিবাদে অগ্রণী ভূমিকা নেন চট্টগ্রাম পুণ্ডরীক ধামের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। সনাতনীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতেই তিনি তৎকালীন প্রশাসনের নিশানায় পড়েন।
মামলা ও জামিন জটিলতা: ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। পরবর্তীকালে একাধিক মামলায় আদালত জামিন দিলেও এখনও মুক্তি মেলেনি তাঁর।
বিচারের নামে প্রহসন: মানবাধিকার কর্মী ও সমর্থকদের অভিযোগ, চিন্ময় প্রভুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ন্যায়বিচার আটকে রাখতে নতুন নতুন মামলা চাপানো হচ্ছে।
কলকাতা প্রেস ক্লাবে বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক
বাংলাদেশে রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়নের শিকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দিয়েছেন তসলিমা নাসরিন। এই তালিকায় রয়েছেন আরও তিন ব্যক্তিত্ব:
শাহরিয়ার কবির: প্রবীণ লেখক ও সাংবাদিক, সংখ্যালঘু অধিকারের পক্ষে কথা বলায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারারুদ্ধ।
অধ্যাপক আবদুল বরকত: ধর্মনিরপেক্ষতার সপক্ষে সওয়াল করায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন।
রানা দাশগুপ্ত: হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, যিনি টানা প্রশাসনিক চাপের মুখোমুখি।
তসলিমা নাসরিনের মতে, শাসনক্ষমতার পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশে মৌলবাদের রাশ আলগা হয়নি। নারী নিরাপত্তা, সম্পত্তিতে অধিকার এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক সুরক্ষা এখনও বিপন্ন। বিশ্বমঞ্চে বসবাসকারী প্রগতিশীল বাঙালিদের তরফে অবিলম্বে সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস-সহ সমস্ত বন্দি মুক্তচিন্তকদের মুক্তির দাবিতে ভারত ও আন্তর্জাতিক মহলকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।



