লুকোচুরি খেলা শেষ! অগ্নিকাণ্ডের ৩ দিন পর গ্রেপ্তার ‘অভিশপ্ত’ শিখা ইনের মালিক
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

লুকিয়ে থেকেও শেষরক্ষা হল না। নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পর গ্রেপ্তার হলেন ‘শিখা ইন’-এর মালিক বীরেশ্বর মিত্র। শনিবার ডায়মন্ড হারবার রোডের বেহালায় নিজের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। এই ঘটনায় মৃত্যু হয় ৯ জন আবাসিকের। মৃতদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। চিকিৎসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে কলকাতায় এসেছিলেন তাঁরা। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের পর আর বাড়ি ফেরা হয়নি তাঁদের।
ঘটনার পর থেকেই হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্রের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটে বেহালার বাসিন্দা বীরেশ্বরের দুটি হোটেল ছিল। তার মধ্যে একটি ‘শিখা ইন’ এবং অন্যটি ‘জাপন’। দুটিই ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট জায়গায় অবস্থিত। ‘শিখা ইনে’র ঠিক বিপরীত দিকেই ছিল ‘জাপন’।
আরও পড়ুন :: ‘আরও ২০-৩০ লক্ষ লাগলে আমি দেব!’ অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিরাট বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক তিনটে নাগাদ তিনতলা ‘জাপন’-এর কর্মীদের নজরে আসে, উলটো দিকের হোটেলটি ভয়াবহ আগুনে জ্বলছে। ‘জাপন’-এর কর্মী ইন্দ্রদেব পাসওয়ান সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের মালিক বীরেশ্বরকে ফোন করে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রথমবার ফোন করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। শেষপর্যন্ত তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর থেকেই বীরেশ্বর মিত্রের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে শনিবার তাঁর গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান হল। ডায়মন্ড হারবার রোডের বেহালার বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস আগে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’-এর একটি তলা বীরেশ্বরের কাছ থেকে লিজ নিয়েছিলেন আবু জাফর নামে এক ব্যবসায়ী। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে বীরেশ্বরকে ৪০ হাজার টাকা করে দিতেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পর পুরো পরিবারকে নিয়ে মধ্য কলকাতার জোড়াসাঁকোর মদনমোহন বর্মন স্ট্রিটের বাড়ি থেকে পালিয়ে যান জাফর। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কলকাতা ছেড়ে উত্তরপ্রদেশে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। তবে তার আগেই পূর্ব কলকাতার এন্টালিতে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন লালবাজারের গোয়েন্দারা।



