বিদ্যুৎ বিলে বড় বদল! ৩১ আগস্টের মধ্যেই রাজ্যের ৪৪ হাজার সরকারি অফিসে চালু প্রিপেড স্মার্ট মিটার, জানুন নতুন নিয়ম
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাজ্যের প্রায় ৪৪ হাজার সরকারি অফিসে প্রিপেড স্মার্ট মিটার চালুর প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ জায়গায় মিটার বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই এই স্মার্ট মিটারগুলিতে বিলিং ব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে।
বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সমস্ত সরকারি দফতরে প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য বিভিন্ন দফতরের প্রধান, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং জেলাশাসকদের চিঠি দিয়ে নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের তরফে। সেই নির্দেশের পর কাজেও গতি এসেছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার সরকারি অফিসে প্রিপেড স্মার্ট মিটার চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। যদিও রাজ্যে সরকারি দফতর ও অফিসের মোট সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার। তাই সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল রাজ্যের ১০০ শতাংশ সরকারি অফিসকেই স্মার্ট মিটার ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা।
আরও পড়ুন :: ‘আমার দেওয়া কালীঠাকুর রোজ পুজো করতেন’, আশিসের বাড়িতে গিয়ে পুরনো স্মৃতি মনে করলেন মুখ্যমন্ত্রী
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিটি সরকারি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের মোবাইল নম্বর ডব্লুবিএসিডিসিএলের পোর্টালে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই মোবাইল নম্বরেই বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া, বিল জমা দেওয়ার শেষ তারিখ-সহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য পাঠানো হবে।
বর্তমানে ডব্লুবিএসিডিসিএলের পোস্টপেড সংযোগ ব্যবহার করছে এবং যেসব সরকারি অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগের লোড ৫০ কিলোওয়াটের বেশি নয়, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রিপেড স্মার্ট মিটার ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রিপেড স্মার্ট মিটারে নতুন করে বিলিং শুরু হওয়ার আগে ডব্লুবিএসিডিসিএলের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসগুলিকে একটি শেষ পোস্টপেড বিল পাঠানো হবে। বিল তৈরির তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেই বকেয়া বিল পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা জমা না পড়লে পরবর্তী সময়ে সেই অর্থ সমন্বয় করে নেওয়া হবে।
যেসব সরকারি অফিস এখনও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের মোবাইল নম্বর ডব্লুবিএসিডিসিএলের পোর্টালে নথিভুক্ত করেনি, তাদের দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে মোবাইল নম্বর নথিভুক্ত করতে হবে, সেই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশিকাও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলির আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক করার লক্ষ্যেও এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ‘রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম (আরডিএসএস)’-এর আওতায় সরকারি অফিসগুলিতে প্রিপেড স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেই নির্দেশিকা মেনেই রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে দ্রুত স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।



