‘তোলাবাজি করতে হলে তৃণমূল করুন!’ দুর্নীতি ইস্যুতে দলীয় কর্মীদের চরম হুঁশিয়ারি সুকান্ত মজুমদারের
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পঞ্চায়েত স্তর থেকে শহর—তোলাবাজি ও কাটমানি ইস্যুতে দলীয় কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে এবার চরম অবস্থান নিল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। “তোলাবাজি করে রাজনীতি করতে হলে বিজেপি নয়, তৃণমূল করুন”—দলীয় কর্মীদের প্রকাশ্যে এই ভাষাতেই কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’: সুকান্ত মজুমদারের কড়া হুঁশিয়ারি
সম্প্রতি দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ও প্রকাশ্য সভায় দুর্নীতি রুখতে সরাসরি আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর বক্তব্যের মূল দিকগুলি:
রাজনীতি করে রোজগারের রাস্তা বন্ধ: সুকান্ত স্পষ্ট জানান, বিজেপি করার অর্থ ত্যাগ স্বীকার করা, রাজনীতিকে উপার্জনের মাধ্যম বানানো নয়। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে টাকা তুলতে চায়, তাদের দলে কোনও স্থান নেই।
সরাসরি FIR করার বার্তা: বিজেপির কোনো নেতা বা কর্মী যদি সাধারণ মানুষকে ভয় দেখায় বা জোরপূর্বক তোলা চায়, তবে কাউকে রেয়াত না করে সরাসরি থানায় এফআইআর দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
দলের সমর্থন না থাকার নিশ্চয়তা: নেতা যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে দল তাঁর পাশে দাঁড়াবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে দুর্নীতির অভিযোগ এলে কোনো পক্ষপাতিত্ব দেখানো হবে না এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিচুতলার কিছু নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে মনে করছে রাজ্য নেতৃত্ব।
দলীয় সূত্রে খবর, অনেক ক্ষেত্রে অন্য দল থেকে আসা স্বঘোষিত কর্মীরা বিজেপির নাম ভাঙিয়ে অসাধু কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে রাজ্য বিজেপির তরফে ইতিমধ্যেই তোলাবাজি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২৫০ জন কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা—শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।



