রাজ্য

‘ফুটপাথ দখল এখন বাংলার ফ্যাশন!’ দুধ গরম বিতর্কে অগ্নিমিত্রার পাশে দাঁড়িয়ে এবার বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

‘ফুটপাথ দখল এখন বাংলার ফ্যাশন!’ দুধ গরম বিতর্কে অগ্নিমিত্রার পাশে দাঁড়িয়ে এবার বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ - West Bengal News 24

রাস্তার পাশে ফুটপাথে বসবাসকারী পরিবারের দুধ গরম করা নিয়ে মন্ত্রীর আপত্তি এবং ভর্ৎসনাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তা বেশ কিছুটা গড়িয়েছিল। যদিও সেই বিতর্কের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওই ফুটপাথবাসী পরিবারটির জন্য মাথার উপর ছাদের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

তাঁদের নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব পুরসভার। তবে এরপরও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থামেনি। এবার সেই প্রসঙ্গে ফের মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বুধবার তিনি বললেন, ‘‘ফুটপাথ দখল একটা ফ্যাশন পশ্চিমবাংলায়। রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের ফায়দা তোলার জন্য এতদিন তা দখলমুক্ত করেনি। কিন্তু এটা করতেই হবে। লোকে এখন অ্যাডজাস্ট করছে।”

আরও পড়ুন :: ‘কলকাতা পুরসভায় এবার সনাতনী মেয়র!’ পুরভোটের ইনচার্জ হয়েই বিরাট হুঙ্কার সুকান্ত মজুমদারের

শহরের ফুটপাথ দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যে প্রথম থেকেই তৎপর বিজেপি সরকার। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নিজের শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রাথমিক পর্যায়ে এই কাজ শুরু করেছেন। সম্প্রতি তাঁর এই অভিযানকে ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। পার্ক স্ট্রিট সংলগ্ন ফুটপাথে এক মহিলাকে সন্তানের জন্য দুধ গরম করতে দেখে ক্ষুব্ধ হন অগ্নিমিত্রা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ওই কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মন্ত্রী জানতে পারেন, তাঁরা ফুটপাথেই থাকেন এবং তাঁদের নিজস্ব কোনও বাড়ি নেই। যদিও এরপরও মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, ফুটপাথে বসবাস করলেও রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় এভাবে দুধ গরম করা যাবে না। মন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। মঙ্গলবার ওই পরিবারটিকে নিয়ে বিধায়ক সজল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির হন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করার জন্য পুরসভাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।

একটি পরিবারের বাসস্থানের সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শহরের অন্যান্য ফুটপাথবাসীদের কী হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গেই দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘ফুটপাথ দখল একটা ফ্যাশন পশ্চিমবাংলায়।” তিনি আরও বলেন, ‘‘ফুটপাথ দখলমুক্ত করতেই হবে। এতদিন রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের সুবিধার জন্য এসব করেননি। যানবাহন বেড়েছে, লোক চলাচল বেড়েছে। এখন রাস্তা ছোট হলে সকলেরই খুব অসুবিধা।

যেসব রাস্তা এখনও দখল হয়ে আছে, সেসব সরালে রাস্তা যথেষ্ট বড় হবে। ওই পরিবারটির সঙ্গে আমারও দেখা হয়েছিল গতকাল। ওঁরা বলেছেন যে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই, মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা করেন। তো এখন সবাই বুঝতে পারছে, অ্যাডজাস্ট করছে। আমাদের তরফেও আবেদন রইল, সবাই মিলে শহরটাকে একটু পরিচ্ছন্ন করে তুলি। মানুষও সহযোগিতা করছেন। সবটা করতে একটু সময় লাগবে।”

আরও পড়ুন ::

Back to top button