
আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে। দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত না হলেও নভেম্বর নাগাদ ভোট হতে পারে—এমনই ইঙ্গিত মিলছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে। এই আবহে প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না বিজেপি। কলকাতা পুরভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দল কে কতদিন করছে তা নয়, একমাত্র ‘জেতার ক্ষমতা’ বা ‘উইনেবিলিটি’-ই হবে মূল মাপকাঠি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরভোটের রণকৌশল সাজাতে বিধায়ক ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করেছে রাজ্য বিজেপি। কলকাতা পুরসভার নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করার বার্তা দিয়ে তিনি জানান, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হবে।
আরও পড়ুন :: সমস্যা জানাতে আর ঘুরতে হবে না সরকারি দপ্তরে! চালু হচ্ছে ‘জনতার দরবার’, জারি কড়া নির্দেশিকা
সুকান্ত মজুমদার বলেন, “লোকাল নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর ভাবমূর্তি, এলাকায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং সাধারণ মানুষ তাঁকে চেনেন কি না—এগুলিই প্রধান বিচার্য বিষয়। বিজেপির সঙ্গে কে কতদিন যুক্ত, সেটা ভোটে টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্ণায়ক হতে পারে না। দলের সংগঠনের ক্ষেত্রে পুরনো-নতুনের হিসাব থাকতে পারে, কিন্তু নির্বাচনের লড়াইয়ে যে জিততে পারবেন, দল তাঁকেই প্রার্থী করবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুকান্ত মজুমদারের এই মন্তব্য বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলের দীর্ঘদিনের পুরনো কর্মী ও অন্য দল থেকে আসা নতুন মুখদের মধ্যে টিকিট বণ্টন নিয়ে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তা শুরুতেই স্পষ্ট করার চেষ্টা করল শীর্ষ নেতৃত্ব।
এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের মতো প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদদের দলবদলের পরেই রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছিল পদ্মশিবির। সুকান্তের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই অবস্থানকেই আরও একবার স্পষ্ট করল—পুরভোটের মতো তৃণমূল স্তরের লড়াইয়ে বিজেপির মূল লক্ষ্য শুধুই জয় নিশ্চিত করা।



