‘আমার দেওয়া কালীঠাকুর রোজ পুজো করতেন’, আশিসের বাড়িতে গিয়ে পুরনো স্মৃতি মনে করলেন মুখ্যমন্ত্রী
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল রামপুরহাটে তাঁর বাড়ির কাছের পার্টি অফিস থেকে। শনিবার বীরভূম সফরে গিয়ে সেই আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রামপুরহাটের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গাড়ি থেকে নামার পরই আশিসের ছেলে শতদল বন্দ্যোপাধ্যায়কে জড়িয়ে ধরেন তিনি। এরপর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর বাইরে বেরিয়ে আসেন শুভেন্দু।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্কের একটি স্মৃতির কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তাঁর দেওয়া একটি কালীঠাকুর প্রতিদিন পুজো করেই বাড়ি থেকে বেরোতেন আশিস।
উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট রামপুরহাটে বাড়ি লাগোয়া পার্টি অফিস থেকে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও পায় পুলিশ। এর আগে তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ বা টিআরডিএ-তে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মানসিক চাপে ছিলেন আশিস।
আশিসের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে শতদলের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার বীরভূম সফরে গিয়ে সরাসরি আশিসের বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। আশিসের স্ত্রীয়ের সঙ্গেও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে আশিসের রহস্যমৃত্যুর পর শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, টিআরডিএ দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি। এমনকি তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ তাঁকে ডেকে পাঠায়নি বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর বাড়ির বাইরে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওনারা (আশিসের পরিবার) আমাকে বলেছেন, প্রশাসন, বিজেপির কেউ উত্তক্ত করেনি। এখানকার বিজেপির কর্মীরা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করতেন। বউদি (আশিসের স্ত্রী)-কে আমি নম্বর দিয়ে এসেছি। দাদাকে তো ফিরিয়ে দিতে পারব না। পাশে থাকার দায়িত্ব পালন করব। আমি একটি প্রোগ্রামে ওঁনাকে একটা কালীঠাকুর দিয়েছিলাম। প্রত্যেকদিন সেই ঠাকুরকে পুজো করে বেরোতেন আশিসবাবু।”
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর আশিসের ছেলে শতদল বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যে ভরসা ও আস্থা দিয়েছেন তাতে আমরা চিরকৃতজ্ঞ। প্রথম দিন থেকে উনি আমাদের খবর নিয়েছেন।”
প্রসঙ্গত, গত ১৬ আগস্ট রাজ্যের প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী এবং বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সুইসাইড নোটে নিজের রাজনৈতিক জীবন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে একাধিক কথা লিখে গিয়েছিলেন তিনি।
চিঠির একটি অংশে আশিস লেখেন, “রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। রাজনৈতিক বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। কখনও শত্রুতার রূপ নেয়নি। সর্বদা সব দলীয় অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। সারাজীবন এক পয়সা কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি।”
টিআরডিএ-তে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ম্যালাইন করা হচ্ছে বলেও সুইসাইড নোটে অভিযোগ করেছিলেন আশিস। তিনি আরও লেখেন, “টিআরডিএ-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও দিন কেউ আলোচনা করেননি। আমাকে অপমান (ম্যালাইন) করার জন্য যা সব করা হল, তাকে ধিক্কার জানাই।”



