
আজ দুপুরে হাজরায় কালীঘাট তৃণমূলের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরে রাস্তায় নামেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ভিড় সামলানোর সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই সময় এক ব্যক্তির গালে চড় মারতে দেখা যায় তাঁকে। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি তৃণমূলেরই একজন কর্মী। এছাড়াও বিশৃঙ্খলা থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে দলের আরও কয়েকজন কর্মীকেও চড় মারতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
বারুইপুর-কাণ্ডের (Baruipur Incident) প্রতিবাদে আজ, বুধবার কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে দুপুরে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে মিছিলটি শুরু হয়। তবে কিছুদূর এগোতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিছিলকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান শোনা যায়। পাশাপাশি রাস্তার এক পাশ থেকে ভেসে আসে ‘মাছ চোর’ গান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি এবং তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তৃণমূলের অভিযোগ, তাদের একাধিক কর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন।
আরও পড়ুন :: 📢 বেইমান বলেও ঘরে ফেরার ডাক! বিদ্রোহীদের নিয়ে মমতার ‘দ্বিমুখী বার্তা’ চরম অস্বস্তিরই ইঙ্গিত?
এরপর কালীঘাটের বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় বাড়ির সামনে প্রচুর মানুষের ভিড় জমে যায়। ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার সময় পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে উঠলে সামনে থাকা দলেরই এক কর্মীকে চড় মারতে দেখা যায় তাঁকে।
এবিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর মানসিকভাবে বিভ্রান্ত হয়ে গেছেন মমতা। এই সমস্ত আচরণ দুর্ভাগ্যজনক হলেও তিনি এখন ঠিকই করছেন। তাঁর মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তিনি এখনও মেনে নিতে পারছেন না, বাংলার মানুষ তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।”
বুধবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন মমতা। পাশাপাশি বারুইপুরের ‘দাঙ্গাকারী’দের প্রতিবাদী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এদিন মমতা বলেন, “হাই কোর্টের অনুমতি নিয়ে মিছিল করেছে ছাত্র-যুবরা। সকলের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। বিজেপির গুন্ডারা আমার বাড়ির সামনে ঘুরে বেড়িয়েছে। চিৎকার করেছে। আমাকে ভয় দেখিয়েছে। ভালো করে সরকার চালাও।”



