রাজ্য

কৃষিভিত্তিক শিল্পে জোর, কাটোয়ার ৬০০ একর জমি নিয়ে বড় পরিকল্পনা রাজ্যের

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

কৃষিভিত্তিক শিল্পে জোর, কাটোয়ার ৬০০ একর জমি নিয়ে বড় পরিকল্পনা রাজ্যের - West Bengal News 24

পূর্ব বর্ধমান জেলায় কৃষিভিত্তিক শিল্প ও ফুড প্রসেসিং শিল্প গড়ে তোলার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এর আগেই বিষয়টি জানিয়েছিলেন রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। এবার কাটোয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চালু না হওয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জমিতে নতুন শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনার কথা জানালেন তিনি।

কাটোয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রায় ৬০০ একর জমিতে বড় মাপের শিল্প গড়ার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। ডবল ইঞ্জিন সরকারের এই উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন কাটোয়া-সহ পূর্ব বর্ধমান জেলার মানুষ।

মন্ত্রী বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য সরকার শিল্পে, কৃষিতে অগ্রগতি, উন্নয়নে কাজ করছে। ধীরে ধীরে সবাই জানতে পারবেন কাটোয়ার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জমিতে কী হতে চলেছে। তবে বলতে পারি সেখানে একটা ভালো শিল্প আসতে চলেছে।”

আরও পড়ুন :: আল্টিমেটাম দিল আদালত! সিআইডির কড়া পদক্ষেপের আর্জির পর এবার কী করবেন অভিষেক?

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই শিল্পে গতি আনতে একাধিক পরিকল্পনা নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। টাটা, আদানির মতো দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীর সহযোগিতায় নতুন শিল্প স্থাপনের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি রাজ্যের শিল্পবান্ধব পরিবেশ, লাল ফিতের জট কাটানো, দক্ষ শ্রমশক্তি-সহ নানা ইতিবাচক দিক সামনে রেখে বিনিয়োগ টানতেও সক্রিয় হয়েছে সরকার।

এর মধ্যেই কাটোয়ার জমি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। তিনি জানান, বর্তমানে ওই জমি এনটিপিসির অধীনে রয়েছে। এনটিপিসি সরাসরি রাজ্য সরকার বা তাঁর দপ্তরের আওতায় না থাকলেও, রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার থাকায় ওই ৬০০ একর জমি নিয়ে নতুনভাবে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে।

বাম আমলে কাটোয়ায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ২০০৬ সালে শুরু হয় জমি অধিগ্রহণ। প্রায় ৬০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রথমে সিদ্ধান্ত ছিল, রাজ্য সরকারের পিডিসিএল সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। তবে প্রকল্পের জন্য আরও জমির প্রয়োজন ছিল। জমি আন্দোলনের জেরে সেই কাজ থমকে যায়।

২০১০ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার জমিটি এনটিপিসির হাতে তুলে দিয়ে সেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ার আহ্বান জানায়। পরে তৃণমূল জমানায় রাজ্য সরকার আরও ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে এনটিপিসিকে দেয়। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির জন্য অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হওয়ায় এনটিপিসিকে সরাসরি বাজার থেকে জমি কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়। এনটিপিসি প্রয়োজনীয় জমি কিনেও নেয়। কিন্তু পরে আচমকাই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে যায় এনটিপিসি।

তারপর থেকেই ওই জমি কার্যত ফাঁকাই পড়ে রয়েছে। বর্তমানে তা গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে কাটোয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা, তা এতদিন অধরাই থেকে গিয়েছিল। তবে রাজ্যে ফের পালাবদলের পর নতুন সরকার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে উদ্যোগী হয়েছে। শিল্প প্রতিমন্ত্রীর নতুন শিল্প সম্ভাবনার ইঙ্গিতে আশাবাদী কাটোয়া।

আরও পড়ুন ::

Back to top button