তৃণমূলের ৩ প্রাক্তনকে রাজ্যসভার টিকিট বিজেপির! ‘তৃণমূলীকরণ’ বিতর্কে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ, দিলেন বড় বার্তা
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর বাংলার রাজনীতিতে একের পর এক বড়সড় ওলটপালট লেগেই রয়েছে। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে (BJP) যোগ দিয়েছেন ঘাসফুল শিবিরের তিন প্রাক্তন দাপুটে সাংসদ— সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। আর পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মিলেছে বড় পুরস্কার! আগামী ২৪ জুলাইয়ের রাজ্যসভা নির্বাচনে এই তিন দলবদলুকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি।
বিজেপির এই সিদ্ধান্তে দলের অন্দরেই ‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়ে ক্ষোভ ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দলের পুরনো কর্মীদের একাংশের মনে প্রশ্ন, যারা এতদিন বিরোধী শিবিরে ছিলেন, তাঁদের কেন এত দ্রুত রাজ্যসভার টিকিট দেওয়া হলো? এই চরম বিতর্কের মাঝেই এবার মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কেন তাঁদের ফের সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠানো হচ্ছে, তার এক বিস্ফোরক ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিলেন তিনি।
আরও পড়ুন :: বাড়ি বাড়ি পৌঁছচ্ছে আয়ুষ্মান ভারতের ফর্ম! কী তথ্য দিতে হবে, কারা পাবেন, বঞ্চিত হলে কী করবেন?
২৬-এর ভোটের পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন প্রবীণ নেতা সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁর দেখানো পথেই একে একে ইস্তফা দেন সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক। এর ঠিক মাসখানেকের মধ্যেই সল্টলেকের বিজেপি সদর দফতরে গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে পদ্মশিবিরে যোগ দেন তাঁরা।
আর যোগদানের রাতেই দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁদের রাজ্যসভার টিকিট দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে আগামী ২৪ জুলাইয়ের ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁদের জয় নিশ্চিত। অর্থাৎ, সংসদের উচ্চকক্ষে তাঁরা ফিরছেন ঠিকই, তবে এবার আর ঘাসফুল নয়, তাঁদের প্রতীক হবে ‘পদ্ম’।
বিজেপির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে যখন সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সমালোচকদের কার্যত চুপ করিয়ে দেন। দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান: “তাঁরা রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন, আবারও সাংসদ থাকতে চান। তাঁরা মোদিজির (Narendra Modi) জন্য কাজ করতে চান, সেকথা আমাদের আগেই জানিয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তো কোনও অপরাধমূলক মামলা নেই! আগে যা হয়েছে, হয়েছে। এখন আমরা তাঁদের ফের কাজ করার সুযোগ দিচ্ছি।”
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যেখানে গোড়া থেকেই দলে ‘তৃণমূলীকরণ’ রুখতে কড়া বার্তা দিয়ে আসছিলেন, সেখানে এই তিন নেতার অন্তর্ভুক্তি ও টিকিট প্রাপ্তি দলের বহু পুরনো কর্মীকে আশাহত করেছে। কর্মীদের এই ক্ষোভ ও ভাবনাচিন্তা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ অত্যন্ত কড়া এবং বাস্তববাদী বার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমাদেরও তো রাজ্যসভায় লোক লাগবে। যেসব কর্মীরা এটা নিয়ে বেশি ভাবনাচিন্তা করছেন, তাঁদের বেশি ভাবার দরকার নেই। ওটা আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বুঝে নেবে।” অর্থাৎ, দিলীপবাবু পরিষ্কার করে দিলেন যে, দলের স্বার্থে এবং রাজ্যসভায় আসন বাড়াতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা কর্মীদের মেনে নিতে হবে।
🔍 এক নজরে বঙ্গ রাজনীতির নতুন সমীকরণ
কারা পেলেন টিকিট? সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক।
কবে নির্বাচন? আগামী ২৪ জুলাই।
বিজেপির যুক্তি: রাজ্যসভায় দলের শক্তি বৃদ্ধি এবং মোদী সরকারের হাত শক্ত করা।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু: দলবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টিকিট দেওয়ায় বিজেপির আদি কর্মীদের একাংশের ক্ষোভ।
বাংলার রাজনীতিতে এই বড় রদবদল এবং রাজ্যসভায় বিজেপির এই নতুন স্ট্র্যাটেজি আগামী দিনে কেমন প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।



