
নির্বাচনে মানুষের সমর্থন হারানোর পাশাপাশি একের পর এক মামলার মুখে পড়লেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন দেখা গেল না। আমতলায় তাঁর দলীয় কার্যালয়ে বুলডোজার অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রশাসনের পদক্ষেপকে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ বলে আক্রমণ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। কালীঘাটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। একত্রিশে সরকার বদলালে বিজেপির একটাও পার্টি অফিস থাকবে না।’
প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিস পাঠানো হলেও তার কোনও জবাব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এরপর শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন অভিযান শুরু করে। তিনটি বুলডোজার দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) পাঁচতলা কার্যালয় ভাঙার কাজ চলে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়ায়। কার্যালয়ের ভিতরে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও ওঠে। অভিষেক বলেন, “শুধু জেলা প্রশাসনের লোক নয়, বিজেপি নেতা-কর্মীরা গেরুয়া উত্তরীয় দিয়ে মুখে ঢেকে পার্টি অফিসে তাণ্ডব করেছে। সমস্ত ভিডিও নিয়ে হাইকোর্টে যাব। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত যাব। ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে, কেউ বাঁচবেন না। যে আইনে পার্টি অফিস ভাঙা হয়েছে, সরকার বদলালে বিজেপির একটাও অফিস থাকবে না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিশোধেরও ইঙ্গিত দেন।
আরও পড়ুন :: রাইফেল শুটার দময়ন্তী নিখোঁজ রহস্যে যবনিকা! কেন ঘর ছেড়েছিলেন ১৫ বছরের কিশোরী? পুলিশি তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য
অভিযোগ, অভিষেকের ওই দলীয় কার্যালয়টি বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছিল। একটি বেকারি পুড়িয়ে রাতারাতি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয় এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনও নেওয়া হয়নি বলে দাবি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কার্যালয়ে দু’বার নোটিস পাঠানো হয়েছিল। যদিও অভিষেকের দাবি, “ওই পার্টি অফিস সরকারি জমিতে নয়। সমস্ত নথি আছে। প্ল্যানও রয়েছে। সব কোর্টে দেখাব।” এরপর বিজেপির বিরুদ্ধে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’র অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। যে আইনে অত্যাচার হচ্ছে, একই আইনে একত্রিশে ফিরিয়ে দেব।”
দলীয় কার্যালয়টি বেআইনি বলে ওঠা অভিযোগ নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর দাবি, “নোটিসের নির্ধারিত দিনে ১৫ তারিখ আমাদের প্রতিনিধিরা গেছিল প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করতে। দু’দিনের মধ্যে সব গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরেও ক্ষমতা প্রদর্শন করতে গিয়ে বুলডোজার মডেল। এর পিছনে বিজেপির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদত আছে।”
অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য, ২০৩১ সালে ফের ক্ষমতায় আসার যে দাবি অভিষেক করছেন, তা বাস্তবসম্মত নয়। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেলেও হুমকির ভাষা থেকে সরে আসেননি তৃণমূল নেতা। আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগের উপর ‘হামলা’র ঘটনার পরে গাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে তৎকালীন বিরোধীদের উদ্দেশে ‘ডিজে বাজানো’র হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন তাঁরা। বিরোধীদের মতে, বর্তমানে নিজের দল বিরোধী আসনে থাকলেও অভিষেকের বক্তব্যে একই ধরনের রাজনৈতিক হুঁশিয়ারির সুর শোনা গিয়েছে।



