
বঙ্গ রাজনীতিতে এখন দলবদলের হিড়িক। কখন কোন নেতা কার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিবির পরিবর্তন করছেন, তার হিসাব রাখাই কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিনিয়তই সামনে আসছে রাজনৈতিক শিবির বদলের নতুন খবর। শুক্রবার দুপুরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের দুই বিশ্বস্ত নেতা বনগাঁর বিশ্বজিৎ দাস এবং রাজারহাট-নিউটাউনের তাপস চট্টোপাধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছেন। এবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজীবের দাবি, আইপ্যাক অভিষেকের কাছে যেসব আসন বিক্রি করেছে, সেই কেন্দ্রগুলিতেই দলের প্রার্থীদের চরম পরাজয় হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অভিষেক দলে থাকলে তিনি আর সেই দলে থাকবেন না। রাজীবের মতে, এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত মত নয়; তৃণমূলের অসংখ্য সাধারণ কর্মীর মনেও একই ক্ষোভ রয়েছে।
আরও পড়ুন :: মদের গন্ধ পেলেই মদ্যপ চালক বলা যাবে না! বড় রায় হাইকোর্টের, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নিয়ম কী?
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা থেকে বেরিয়ে আসার সময় নিজের ঘরে টাঙানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিটি বুকে আগলে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনার মাধ্যমে রাজীব বোঝাতে চেয়েছিলেন, দলনেত্রীর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে। তবে দলের একটি অংশের ‘একচেটিয়া’ মনোভাবের কারণেই তিনি তৃণমূল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন।
তৃণমূল ছাড়ার পর বিজেপিতে যোগ দেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের কেন্দ্র ডোমজুড় থেকে বিজেপির প্রার্থীও হন তিনি। যদিও তৃণমূল প্রার্থীর কাছে তাঁকে পরাজিত হতে হয়। প্রায় এক বছর পর ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন রাজীব।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর ‘গড়’ ডোমজুড়ের পরিবর্তে ডেবরা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন কেন্দ্রে জয় পেতে প্রচারে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছিলেন রাজীব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাফল্য আসেনি। ডেবরায় বড় ব্যবধানে জয় পান বিজেপি প্রার্থী।
নির্বাচনে হারের পর কার্যত জনসমক্ষে দেখা যায়নি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রায় আড়াই মাস পরে ফের প্রকাশ্যে এসে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা বাড়িয়েছেন তিনি। ফেসবুকের কভার ছবি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে দিয়েছেন রাজীব। সেখানে বর্তমানে শুধু তাঁর নিজের ছবি রয়েছে, যার উপরে লেখা মানুষের সাথে, মানুষের পাশে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এনেছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে রাজীব বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশেপাশে সবাই বলছেন যে অভিষেক থাকলে তাঁরা দল করবেন না। অভিষেক সরে গেলে সকলে আবার একজোট হয়ে দিদির পাশে থাকবেন। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না যে এখনও কেন দিদি অভিষেকের হাতটা ধরে আছেন। এটা আমাদের নেতাদের কথা নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের অগণিত সাধারণ কর্মীদের মনের কথা এটাই। আমার বক্তব্য হল, রাজনীতি করা মানুষের জন্য। সেই কাজই যদি না করতে পারি, কেন দলে থাকব?”
এরপর আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজীব বলেন, ‘‘অভিষেক আমার রাজনৈতিক কেরিয়ার, পরিবার সব শেষ করে দিয়েছে। যেসব আসন আইপ্যাক তাঁকে বিক্রি করে দিয়েছে, সেখানেই পরাজয় ঘটেছে দলের প্রার্থীদের।”
রাজীবের এই মন্তব্যের পর তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি কি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেবেন, নাকি ফের বিজেপিতে ফিরে যাবেন এই প্রশ্ন উঠলেও এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট উত্তর দেননি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।



