জাতীয়

মদের গন্ধ পেলেই মদ্যপ চালক বলা যাবে না! বড় রায় হাইকোর্টের, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নিয়ম কী?

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

মদের গন্ধ পেলেই মদ্যপ চালক বলা যাবে না! বড় রায় হাইকোর্টের, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নিয়ম কী? - West Bengal News 24

গাড়ি চালানোর সময় শরীর থেকে মদের গন্ধ বেরোলেই কি ধরে নেওয়া যাবে চালক মদ্যপ? এই নিয়ে সাধারণ মানুষ ও পুলিশের মধ্যে প্রায়শই বচসা বাঁধতে দেখা যায়। তবে এবার এই বিষয়ে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী রায় দিল দেশের উচ্চ আদালত। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র মদের গন্ধের ওপর ভিত্তি করে কোনো চালককে ‘নেশাগ্ৰস্ত’ বা মদ্যপ বলে তকমা দেওয়া যাবে না। এর জন্য নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের এই রায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal Traffic Rules) মদ্যপ চালক ধরার ক্ষেত্রে ঠিক কী নিয়ম মেনে চলা হয়? কলকাতা পুলিশ বা রাজ্য পুলিশ ঠিক কী ব্যবস্থা নেয়? আসুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

🔍 কী ঘটেছিল? কেন এমন রায় দিল হাইকোর্ট?

ঘটনার সূত্রপাত উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায়। অমর সিং নামে এক গাড়িচালক বদ্রীনাথ থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। গাড়ির চাকা ফেটে যাওয়ার কারণে ঘটে যাওয়া এই মারাত্মক দুর্ঘটনায় এক যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

পুলিশ দাবি করেছিল, দুর্ঘটনার সময় চালক অমর সিং মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। নিম্ন আদালত পুলিশের এই দাবি মেনে নিয়ে চালকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক নির্দেশও দেয়। কিন্তু এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অমর।

হাইকোর্টের বিচারপতি অলোক মেহরা পুরো মামলাটি খতিয়ে দেখে জানান:

  • হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চালকের শরীর থেকে অ্যালকোহলের গন্ধ পাওয়া গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তিনি আদৌ নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না, তা প্রমাণ করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পুলিশের কাছে ছিল না।

  • চালকের শরীরে অ্যালকোহলের মাত্রা কত ছিল, তা নিশ্চিত করতে কোনো ব্রেথ অ্যানালাইজার (Breath Analyzer) পরীক্ষা বা রক্তের পরীক্ষা (Blood Test) করা হয়নি।

  • প্রত্যক্ষদর্শী ও গাড়ি পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল আচমকা টায়ার বিস্ফোরণের কারণে, চালকের গাফিলতিতে নয়। এর ভিত্তিতেই চালকের বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধমূলক হত্যার মামলা পুরোপুরি খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।

🚨 মদ্যপ চালক সনাক্তকরণে পশ্চিমবঙ্গের নিয়ম কী? (West Bengal Traffic Police Rules)

উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের এই রায়ের পর বাংলার গাড়ি চালকদের মনে প্রশ্ন জেগেছে—পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ কীভাবে মদ্যপ চালকদের চিহ্নিত করে? শুধু মদের গন্ধ পেলেই কি এখানে মামলা দেওয়া যায়?

এই বিষয়ে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তারা অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে: “গা থেকে মদের গন্ধ পাওয়া গেলেই বাংলায় কোনো চালকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয় না। ট্রাফিক আইন অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক।”

পশ্চিমবঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের নিয়মগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক: রাস্তায় চেকিংয়ের সময় কোনো চালকের ওপর সন্দেহ হলে পুলিশ ‘ব্রেথ অ্যানালাইজার’ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করে। এই যন্ত্রের রিডিং-ই আসল প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।

  • অ্যালকোহলের নির্দিষ্ট সীমা: মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্ট অনুযায়ী, প্রতি ১০০ মিলি রক্তে যদি অ্যালকোহলের মাত্রা ৩০ মিলিগ্রাম (30 mg per 100 ml of blood) বা তার বেশি হয়, তবেই তাকে ‘মদ্যপ’ বা ড্রাঙ্ক অ্যান্ড ড্রাইভ (Drunk and Drive) মামলার আওতায় আনা হয়।

  • মেডিকেল টেস্টের অধিকার: যদি কোনো কারণে স্পটে ব্রেথ অ্যানালাইজার কাজ না করে, তবে নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চালকের রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। রক্তের রিপোর্টে অ্যালকোহলের মাত্রা বিপদসীমা পার করলেই একমাত্র মামলা রুজু হয়।

হাইকোর্টের এই রায় এবং পশ্চিমবঙ্গের পুলিশি নিয়ম থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার—আইন বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে চলে, অনুমানের ওপর নয়। তাই রাস্তায় পুলিশ চেকিংয়ের মুখে পড়লে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকুন এবং ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষার রিপোর্ট দেখতে চান। আইন মেনে গাড়ি চালান এবং সুরক্ষিত থাকুন।

আরও পড়ুন ::

Back to top button