আন্তর্জাতিক

রাত ১২টা বাজলেই বন্ধ হবে সোশ্যাল মিডিয়া! সরকারের এই বড় সিদ্ধান্তে তোলপাড় বিশ্ব

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Social Media Curfew : রাত ১২টা বাজলেই বন্ধ হবে সোশ্যাল মিডিয়া! সরকারের এই বড় সিদ্ধান্তে তোলপাড় বিশ্ব - West Bengal News 24

Social Media Ban for Teens: বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত আসক্তি তরুণ প্রজন্মের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এই পরিস্থিতিতে কিশোর-কিশোরীদের স্মার্টফোনের গ্রাস থেকে বাঁচাতে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। চালু হতে চলেছে ‘সোশ্যাল মিডিয়া কারফিউ’ (Social Media Curfew)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাত ১২টা বাজলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হয়ে যাবে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলি। সরকারের এই কড়া সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

কী এই সোশ্যাল মিডিয়া কারফিউ? জেনে নিন আসল নিয়ম

তরুণ প্রজন্মকে ভার্চুয়াল দুনিয়ার আসক্তি থেকে বের করে আনতে ব্রিটিশ প্রশাসন এই বিশেষ নিয়মের খসড়া তৈরি করেছে। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী:

  • বয়সসীমা: এই নিয়মটি মূলত ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

  • নির্দিষ্ট সময়: রাত ১২টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত (টানা ৬ ঘণ্টা) সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ সম্পূর্ণ ব্লক থাকবে।

  • ফিচার নিয়ন্ত্রণ: এই নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাপগুলির আকর্ষণ বাড়াতে ব্যবহৃত ‘অটো-প্লে ভিডিও’ (Auto-play Videos)-র মতো ফিচারগুলিও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।

এর ফলে গভীর রাতে চাইলেও কম বয়সীরা স্ক্রিন স্ক্রোল করে সময় নষ্ট করতে পারবে না।

আরও পড়ুন :: মদের গন্ধ পেলেই মদ্যপ চালক বলা যাবে না! বড় রায় হাইকোর্টের, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নিয়ম কী?

হঠাৎ কেন এই কড়া পদক্ষেপ? জানালেন প্রযুক্তি মন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের (UK) প্রযুক্তি মন্ত্রী লিজ কেন্ডাল জানিয়েছেন, তরুণদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেই এই কঠোর বিধিনিষেধের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের মতে, রাতে ফোনের স্ক্রিনে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে কিশোর-কিশোরীদের ঘুম ব্যাহত হচ্ছে, যা তাদের পড়াশোনা এবং মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই কারফিউ কার্যকর হলে তরুণরা পর্যাপ্ত ঘুমানোর সুযোগ পাবে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি দূর করবে। পাশাপাশি, ভার্চুয়াল জীবনের বাইরে এসে পরিবার ও বন্ধুদের সাথে বাস্তব জীবনে ‘কোয়ালিটি টাইম’ কাটানোর অভ্যাস তৈরি হবে।

কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে এই নতুন আইন?

রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সংক্রান্ত বিশেষ বিলটি চলতি বছরেই যুক্তরাজ্যের সংসদে পেশ করা হতে চলেছে। সংসদে বিলটি পাস হওয়া মাত্রই আগামী বছরের শুরু থেকে এই নতুন আইনটি দেশজুড়ে পুরোপুরি কার্যকর করা হতে পারে। ব্রিটিশ সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আইনটি বলবৎ হওয়ার পর প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে (Tech Companies) অত্যন্ত কঠোরভাবে এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। এর প্রয়োগে কোনও ধরনের শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না।

বিতর্কের ঝড়: আদতেও কি সফল হবে এই পরিকল্পনা?

এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দু’টি ভিন্ন মত তৈরি হয়েছে:

১. পক্ষের যুক্তি (অনুকূল প্রভাব):

বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়া মূলত ছোটদের জন্য তৈরি করা হয়নি। এর ক্রমাগত ব্যবহার কম বয়সীদের মধ্যে ডিপ্রেশন (অবসাদ), ওবিসিটি (স্থূলতা) ও তীব্র অ্যাংজাইটির (দুশ্চিন্তা) মতো গুরুতর সমস্যা বাড়িয়ে তুলছে। তাই সরকারের এই হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল।

২. বিপক্ষের যুক্তি (সমালোচকদের আশঙ্কা):

সমালোচকদের মতে, শুধু প্রযুক্তিগতভাবে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আজকের যুগের প্রযুক্তিতে দক্ষ কিশোর-কিশোরীরা ভিপিএন (VPN) বা অন্য কোনও বিকল্প উপায়ের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথ ঠিকই খুঁজে বের করে নিতে পারে। তাই আইন পাসের পাশাপাশি পারিবারিক স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধিও সমান জরুরি।

আরও পড়ুন ::

Back to top button