জাতীয়

মাঝরাতে নগ্ন হয়ে মন্দিরে প্রবেশ, দেবীর মূর্তি বুকে জড়িয়ে পুকুরে ঝাঁপ তরুণী ইঞ্জিনিয়ারের! হায়দরাবাদের ঘটনায় তোলপাড়

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Hyderabad Techie Death : মাঝরাতে নগ্ন হয়ে মন্দিরে প্রবেশ, দেবীর মূর্তি বুকে জড়িয়ে পুকুরে ঝাঁপ তরুণী ইঞ্জিনিয়ারের! হায়দরাবাদের ঘটনায় তোলপাড় - West Bengal News 24

Hyderabad Techie Tejaswini Death Case Mystery : মাঝরাতে হঠাৎ করেই মায়ের ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দিলেন বছর ২৫-এর তরুণী। তারপর জামাকাপড় ছেড়ে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় সোজা হেঁটে গেলেন স্থানীয় এক মন্দিরে। সেখানে গিয়েই ক্ষান্ত হননি, গর্ভগৃহ থেকে দেবী আম্মাভারুর মূর্তিটি বুকে জড়িয়ে ধরে ঝাঁপ দিলেন পাশের পুকুরে! হায়দরাবাদের পীরজাদিগুদা এলাকায় এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তরুণীর এই রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। উদ্ধার হয়েছে তরুণীর মৃতদেহ, কিন্তু এখনও খোঁজ মেলেনি সেই দেবী মূর্তির। মানসিক অবসাদ, পারিবারিক বিবাদ নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো রহস্য? খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

🔎 কে এই তরুণী ইঞ্জিনিয়ার? কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম তেজস্বী (২৫)। তিনি পেশায় একজন আইটি পেশাদার (Software Engineer)। পূর্বে বেঙ্গালুরুর একটি নামী আইটি সেক্টরে কর্মরত থাকলেও, পরবর্তীতে তিনি বিশাখাপত্তনমে চলে আসেন। তবে বাবা ও মায়ের মধ্যে তীব্র বৈবাহিক বিবাদের কারণে তেজস্বীর বাবা বিশাখাপত্তনমেই আলাদা থাকতেন।

বর্তমানে তেজস্বী ও তাঁর মা অরুণা হায়দরাবাদের পীরজাদিগুদা (Peerzadiguda) এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে একসঙ্গে থাকতেন। তদন্তকারীদের দাবি, মা ও মেয়ে দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক ভয় ও এক অজ্ঞাত ফোবিয়ায় ভুগছিলেন।

ঘটনার দিন কী ঘটেছিল?

  • গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) তেজস্বী ও তাঁর মা নতুন একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে শহরের মিয়াঁপুর এলাকায় গিয়েছিলেন।

  • রাতে বাড়ি ফিরে দুজনে আলাদা ঘরে ঘুমোতে যান।

  • মাঝরাতে আচমকাই তেজস্বী তাঁর মায়ের ঘরের দরজা বাইরে থেকে লক করে দেন।

  • এরপর সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা চলে যান স্থানীয় মন্দিরে।

😱 দেবীর মূর্তি নিয়ে পুকুরে ঝাঁপ! উধাও মহামূল্যবান প্রমাণ

মন্দিরে প্রবেশ করে তেজস্বী দেবী আম্মাভারুর (Goddess Ammavaru) একটি মূর্তি তুলে নেন এবং সেটি বুকে জড়িয়ে ধরেই পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। শনিবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুকুর থেকে তেজস্বীর মৃতদেহ উদ্ধার করে।

ময়নাতদন্তের পর দেহটি তাঁর মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং বিশাখাপত্তনমে থাকা তাঁর বাবাকে খবর দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, তেজস্বীর দেহ মিললেও সেই দেবী মূর্তিটি এখনও নিখোঁজ। মূর্তিটি উদ্ধারের জন্য ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (DRF) নৌকা নামিয়ে পুকুরে জোরকদমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশের মতে, এই মূর্তিটি মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

🧐 দৈনিক ৩,৫০০ টাকা ভাড়া! ফ্ল্যাট ঘিরেই কি লুকিয়ে আসল রহস্য?

তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা এই মৃত্যুকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে:

  1. অস্বাভাবিক ফ্ল্যাট ভাড়া: তেজস্বী যে ফ্ল্যাটটিতে থাকতেন, তার দৈনিক ভাড়া ছিল প্রায় ৩,৫০০ টাকা। অর্থাৎ, মাসে প্রায় ১ লক্ষ টাকা ভাড়া গুনতেন এই তরুণী। একজন চাকরিজীবীর পক্ষে কেন এত টাকা ভাড়া দিয়ে থাকা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

  2. লজ কারবার: তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই নির্দিষ্ট বিল্ডিংয়ের ওপরের দুটি তলা লজের মতো করে চালানো হতো।

এই লজ ব্যবসা এবং অস্বাভাবিক ভাড়ার সাথে তরুণীর মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

⚖️ আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু? কী বলছে পুলিশ?

প্রাথমিকভাবে পুলিশ বিষয়টিকে মানসিক অবসাদ ও পারিবারিক সমস্যার জেরে ‘আত্মহত্যা’ বলে অনুমান করলেও, বেশ কিছু প্রশ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে। কেন তিনি নগ্ন অবস্থায় মন্দিরে গেলেন? কেনই বা দেবীর মূর্তি জড়িয়ে ধরলেন?

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য: “ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও এর পেছনের আসল উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। আমরা সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং ফরেনসিক প্রমাণ খতিয়ে দেখছি। তরুণীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং ডেইলি লাইফস্টাইলও স্ক্যান করা হচ্ছে।”

আরও পড়ুন ::

Back to top button