জাতীয়

তুকারাম মুন্ডের কড়া অ্যাকশন! চিকেন ললিপপ ও শাওয়ার্মা থেকে লাল রঙ উধাও, স্ট্রিট ফুডে ভোলবদল

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

তুকারাম মুন্ডের কড়া অ্যাকশন! চিকেন ললিপপ ও শাওয়ার্মা থেকে লাল রঙ উধাও, স্ট্রিট ফুডে ভোলবদল - West Bengal News 24

রাস্তার ধারের লোভনীয় লাল টুকটুকে চিকেন ললিপপ (Chicken Lollipop), চিজ-ভরা শাওয়ার্মা (Shawarma) কিংবা চাইনিজ মাঞ্চুরিয়ান বল—এই খাবারগুলির আসল আকর্ষণই যেন ছিল তাদের চড়া লাল রঙ। কিন্তু মুম্বইয়ের স্ট্রিট ফুডের সেই চেনা দৃশ্য রাতারাতি বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম রঙের বদলে খাবারে ফিরছে প্রাকৃতিক হলুদ আভা। নেপথ্যে? মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FDA) কমিশনার তুকারাম মুন্ডে (Tukaram Mundhe)-র কঠোর পদক্ষেপ। সাধারণ মানুষ ও খাদ্যরসিকদের মধ্যে এই পরিবর্তন ইতিমধ্যেই পরিচিতি পেয়েছে ‘তুকারাম মুন্ডে এফেক্ট’ (Tukaram Mundhe Effect) নামে।

খাদ্য সুরক্ষা আইন কঠোরভাবে লাগু করতে রাজ্যজুড়ে এফডিএ-র লাগাতার অভিযানের ফলেই লাইসেন্স বাতিল এবং ভারী জরিমানার ভয়ে পথচলতি খাবার বিক্রেতারা কৃত্রিম রঙের ব্যবহার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বদলে গেছে খাবারের রঙ: কৃত্রিম লাল ছেড়ে ফিরছে স্বাভাবিক রূপ

মুম্বইয়ের মারোল নাকা এলাকার এক জনপ্রিয় ফুড ট্রাক মালিক জানিয়েছেন, এফডিএ-র কড়া নির্দেশের পর তারা সমস্ত সিন্থেটিক ফুড ডাই এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করেছেন। ফলে আগে যেখানে ম্যারিনেট করা মাংস চড়া লাল দেখাত, তা এখন ঘরোয়া মশলার ব্যবহারে স্বাভাবিক হলুদ রঙের হচ্ছে।

একইভাবে আন্ধেরি ইস্টের এক ভাদা পাও বিক্রেতার কথায়, খোলা ড্রাম বা আনলেবেলড পাম তেলের ব্যবহার তিনি বন্ধ করেছেন। জরিমানার খাঁড়া এড়াতে এখন কেবল সিলপ্যাক, মানসম্মত ব্র্যান্ডেড রান্নার তেলই ব্যবহার করছেন তারা।

কী বলছেন এফডিএ প্রধান তুকারাম মুন্ডে?

এই বিষয়ে এফডিএ প্রধান তুকারাম মুন্ডে স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনকারী এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারকারী বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে তাদের লাগাতার অভিযান চলছে।

মুন্ডে বলেন, “আগে রাস্তার ধারের চিকেন ললিপপ ও মাঞ্চুরিয়ান মানেই ছিল কৃত্রিম গাঢ় লাল রঙ। আমাদের কড়া পদক্ষেপ ও লাগাতার অভিযানের পর বিক্রেতারা খাবারে বিষাক্ত ফুড কালার মেশানো প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে খাবারের আসল চেহারা ফিরছে।”

ভোজ্য তেল নিয়েও ১৪ দফার কঠোর নির্দেশিকা

কেবল ফুড কালার নয়, পোড়া তেলের ব্যবহার রুখতেও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে এফডিএ। ২০ আগস্ট রাজ্যজুড়ে ভোজ্য তেল বিক্রির ওপর ১৪ দফার একটি কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্ট (FSSA), ২০০৬-এর অধীনে জারি হওয়া এই নির্দেশে বলা হয়েছে:

  • খোলা তেল (Loose Edible Oil) বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • ব্যবহৃত বা পুরনো তেলের কন্টেইনারে পুনরায় তেল ভরা যাবে না।

  • একই তেল বারবার ফুটিয়ে বা ভেজে রান্না করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।

এই নিয়ম শুধু ফুটপাতের বিক্রেতাদের জন্য নয়, তেল নিষ্কাশন ইউনিট (Oil Mill), বড় প্রস্তুতকারক, খুচরো দোকান এবং অনলাইন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম—সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর হবে।

বিএমসি (BMC) ও এফডিএ (FDA): কার কী দায়িত্ব?

মুম্বইয়ে অভিযানের আইনি বিভাজন স্পষ্ট করে মুন্ডে জানান, বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC) এবং FDA সম্পূর্ণ আলাদা এক্তিয়ারে কাজ করে।

  • BMC-র দায়িত্ব: রাস্তা দখল (Encroachment), হকার লাইসেন্স এবং স্টলের সঠিক অবস্থান দেখা।

  • FDA-র এক্তিয়ার: খাবারের গুণগত মান, স্বাস্থ্যবিধি এবং জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা মানদণ্ড (FSSAI) বজায় রাখা।

আইন অমান্যকারী যে কোনো স্ট্রিট ফুড ভেন্ডরের বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button