
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টে (আইএসএফ) যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। তবে পাঁচ মাসও কাটেনি, তার মধ্যেই ফের রাজনৈতিক অবস্থান বদল করলেন তিনি। সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আইএসএফ ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ভাঙড়ের এই নেতা।
আরাবুল লেখেন, “আইএসএফের স্বৈরাচারী এবং একনায়কতন্ত্রকে আমি ধিক্কার জানাই। আইএসএফের লুম্পেন বাহিনীর হাতে ভাঙড় জুড়ে যেভাবে মানুষের উপরে অত্যাচার-অনাচার নেমে এসেছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এই দল থেকে আমি পদত্যাগ করলাম।”
আরাবুলের এই সিদ্ধান্তের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি এবার আবার তৃণমূলে ফিরে যেতে পারেন? যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আরাবুলের কাছ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। উল্লেখ্য, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনওই পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। একসময় ভাঙড়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করা এই ‘তাজা নেতা’ কলেজের এক শিক্ষিকার মাথায় জগ ছোড়ার মতো গুরুতর ঘটনায় দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরে অবশ্য তাঁর উপর থেকে সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেয় তৃণমূল। দলে প্রত্যাবর্তনের পর ফের ভাঙড়ে নিজের প্রভাব বাড়াতে শুরু করেন আরাবুল ইসলাম।
আরও পড়ুন :: ‘যাদবপুরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে!’ ক্যাম্পাসে ছাত্র সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের পর দিলীপ ঘোষের চরম হুঁশিয়ারি
একসময় ভাঙড় এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় আরাবুলের প্রভাব ছিল যথেষ্ট বেশি। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গেও একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। দলীয় নেতৃত্ব একাধিকবার তাঁকে সতর্ক করলেও সেই নির্দেশে বিশেষ গুরুত্ব দেননি আরাবুল। প্রায় তিন বছর আগে পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় এলাকায় রাজনৈতিক অশান্তিতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে সমর্থকদের ‘আপ্যায়ণে’ মালা পরে ভাঙড়ে ফেরেন তিনি।
তবে শওকত মোল্লার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক বিরোধ মেটেনি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আরাবুল দাবি করেছিলেন, তৃণমূলে তিনি ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। দলের বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার পরও তাঁকে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। সেই অভিমান থেকেই তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন আরাবুল। এরপর নওশাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বাধীন আইএসএফে যোগ দেন।
এবার সেই আইএসএফের সঙ্গও ছেড়ে দিলেন আরাবুল। তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তিনি কি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন, নাকি ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করবেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।



