
একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্রের ‘ককরোচ’ মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক বিতর্ক। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই পরে গড়ে ওঠে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। এবার এই ঘটনাকে ঘিরে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং সিবিআইয়ের কাছে জবাব চাইল শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। মামলাকারীর অভিযোগ, আদালতের শুনানির ভিডিও ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পাদনা করে প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের অর্থ বিকৃত করা হয়েছে এবং তা বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ মূল মন্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ মে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে দিল্লি হাই কোর্টের একটি মামলার শুনানি চলাকালীন আদালতের কার্যপ্রণালীর অপব্যবহার এবং আইনজীবীদের মানের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সেই সময় ভুয়ো আইনজীবীদের প্রসঙ্গে ‘ককরোচ’ বা আরশোলা শব্দটি ব্যবহার করেন প্রধান বিচারপতি। অভিযোগ, পরবর্তীতে ওই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে যুব সমাজকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় ককরোচ জনতা পার্টি। পরবর্তীকালে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জেন জি প্রজন্মের আন্দোলনেও এই সংগঠন নেতৃত্ব দেয় বলে জানা যায়।
আরও পড়ুন :: কলকাতায় ২০৯ ও হাওড়ায় ওয়ার্ড বেড়ে ৬৮! বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশনে পেশ সংশোধনী বিল
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজা চৌধুরী নামে এক আইনজীবী শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ১৫ মে-র পর থেকে আদালতের কার্যবিবরণীর নির্দিষ্ট অংশ বেছে নিয়ে তা সম্পাদনা করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণকে বিকৃত করে বিভিন্ন ধরনের মিম তৈরি করা হচ্ছে এবং সেগুলি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে বাণিজ্যিক লাভ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলাকারীর দাবি, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে বিচারপতিদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অথচ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বলা শব্দ বা মন্তব্য বেছে নিয়ে সেগুলি সম্পাদনা করা হচ্ছে। এই গোটা ঘটনার তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, আদালতের বক্তব্যকে ব্যবহার করে যারা বাণিজ্যিক সুবিধা অর্জন করছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
এই জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার এবং সিবিআইয়ের কাছে জবাব চেয়েছে শীর্ষ আদালত।



