অশান্ত নেপালে পশুপতিনাথ মন্দিরে সেনা নজরদারি, ভারতীয় দূতাবাস ফেরাল ৩৮ ভারতীয়কে
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

‘জেন জি’ আন্দোলনের জেরে ভেঙে পড়েছে নেপালের ওলি সরকার। উত্তেজিত জনতার রোষ এড়িয়ে যায়নি সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কিংবা মন্ত্রীদের দপ্তর। তিন দিন ধরেই প্রতিবেশী দেশে চলছে হিংসাত্মক অরাজকতা। কাঠমান্ডুর ঐতিহাসিক পশুপতিনাথ মন্দিরও রক্ষা পায়নি এই তাণ্ডব থেকে। দুষ্কৃতীরা ঢুকে ভাঙচুর ও লুঠপাটের চেষ্টা চালালেও সেনাবাহিনীর সতর্কতায় সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে সেনার কড়া পাহারায় রয়েছে মন্দির চত্বর।
এদিকে, বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসের উদ্যোগে রক্সৌল সীমান্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন ৩৮ ভারতীয় নাগরিক। এদের মধ্যে ২২ জন অন্ধ্রপ্রদেশের, বাকি ১৬ জন কর্নাটকের বাসিন্দা। সীমান্ত পেরোনোর পর তাঁদের দায়িত্ব নেয় বিহার প্রশাসন এবং শিগগিরই নিজ নিজ রাজ্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। নির্বিঘ্নে দেশে ফেরার সুযোগ করে দেওয়ায় ভারতীয় দূতাবাস এবং দুই দেশের প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ফিরতি যাত্রীরা। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহায়তায় শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত দিয়েও বহু ভারতীয় দেশে ফিরছেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা পশুপতিনাথ মন্দির কমপ্লেক্সে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায় এবং গেটে ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতেই সেনা নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বর্তমানে মন্দির ও আশপাশের এলাকায় সেনা টহল অব্যাহত আছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার দুর্নীতির অভিযোগে ‘জেন জি’ আন্দোলনের সূচনা হয়। পরদিন পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। তার পর থেকে উত্তেজনা আরও বাড়ে, বহু নেতামন্ত্রীর বাড়ি পুড়িয়ে দেয় জনতা, রাস্তায় মন্ত্রীদের মারধরও করা হয়। বর্তমানে ক্ষমতা সামলাচ্ছে সেনা। ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকির নাম ঘোষণা করেছে ‘জেন জি’। পুরো পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে ভারত সরকার।



