ইতিহাসের ছোঁয়ায় ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক! রাজ্যের সিদ্ধান্তে সংরক্ষিত হচ্ছে প্রতিমা
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

মর্ত্য থেকে কৈলাসের উদ্দেশে উমার বিদায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে ব্যতিক্রম ঘটেছে ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক সর্বজনীনে। কারণ, এ বছরও প্রতিমা বিসর্জন নয়। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত বছরের মতো এবারও প্রতিমা সংরক্ষণ করা হবে। এইবার সংরক্ষণের স্থান হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে রবীন্দ্র সরোবরের ‘মা’ সংগ্রহশালা। উল্লেখ্য, গত বছর বেহালার চাঁদের হাটে প্রতিমা সংরক্ষিত হয়েছিল। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বসিত পুজো কমিটির সদস্যরা।
৫৫তম বর্ষে পা দেওয়া ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক সর্বজনীনের এবারের থিম ‘প্রত্নকথা’, যা মোগলমারির ইতিহাসকে কেন্দ্র করে নির্মিত। থিমের শিল্পী রাজু সরকার জানিয়েছেন, মোগলমারি অঞ্চলের মাটির নীচে লুকিয়ে আছে ইতিহাসের অগণিত নিদর্শন খননে মিলেছে বৌদ্ধমূর্তি, প্রাচীন ইট ও নানা নকশা।
কেন এই থিম বেছে নেওয়া হলো, সে বিষয়ে এস বি পার্ক দুর্গাপুজোর কর্মকর্তা সঞ্জয় মজুমদার বলেন, “যাঁরা বলেন বাংলার ইতিহাস নেই, সেই অভিযোগের দৃপ্ত প্রতিবাদ এই মোগলমারি। ইতিহাস-মিথ-জনশ্রুতি বুকে নিয়ে হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করছে এই ভূমি।” তাঁর মতে, এখনও পর্যন্ত মাটির নীচে গুপ্তোত্তর যুগের বহু নিদর্শন লুকিয়ে রয়েছে।
ঐতিহাসিকদের ধারণা, ১৫৭৫ সালে মেদিনীপুর ও ওড়িশার জলেশ্বরের মাঝামাঝি তুকারুই নামে স্থানে মোগল ও পাঠানের এক ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে বহু মোগল সেনা প্রাণ হারায়, সেখান থেকেই এলাকার নাম হয় মোগলমারি। থিমের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে তৈরি করা হয়েছে দেবী প্রতিমা, যেখানে স্পষ্ট দেখা যায় বৌদ্ধধর্মের প্রভাব। কারণ, প্রতিমাটি নির্মিত হয়েছে বৌদ্ধধর্মের তারামূর্তির আদলে।
থিম প্রকাশ অনুষ্ঠানে পুরাণবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি বলেন, “বৌদ্ধধর্মে তারা হলেন একজন ত্রাণকর্তা দেবী, যিনি মহাযান ও বজ্রযান সম্প্রদায়ে পূজিত হন। তিনি অবলোকিতেশ্বরের অশ্রু থেকে জন্ম নিয়েছিলেন এবং তাঁকে মা হিসেবে বর্ণনা করা হয়।” রাজ্য সরকারও এই প্রতিমাটিকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে, গত বছর এসবি পার্কের থিম ছিল ‘শৈশবের দুগ্গা’। সেবার প্যাস্টেল রঙে সাজানো মণ্ডপে ছড়িয়ে ছিল শিশুসুলভ সরলতার ছোঁয়া কচিকাঁচাদের আঁকা ঘর, গাছ, নদী, হাঁস, স্কুলভ্যান ইত্যাদি। সেই প্রতিমাও বর্তমানে সংরক্ষিত আছে বেহালার চাঁদের হাটে।



