‘জুবিনদাকে বিষ খাইয়ে খুন’ সিট জেরায় চাঞ্চল্যকর দাবি ব্যান্ড সদস্য শেখরজ্যোতির!
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

“জুবিন গর্গ সাঁতার জানত। তাই জলে ডুবে মৃত্যু হওয়া অসম্ভব…!” — গ্রেপ্তারির পর পুলিশি জেরায় এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন প্রয়াত গায়ক জুবিন গর্গের ব্যান্ডের ড্রামার শেখরজ্যোতি গোস্বামী। শুধু তাই নয়, তদন্তে জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগও তুলেছেন তিনি, যা নড়েচড়ে বসিয়েছে সিট আধিকারিকদের।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে গিয়ে সাঁতার কাটার সময় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় অসমের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গের। এই আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে শুরু থেকেই ওঠে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নির্দেশে অসম সরকার গঠন করে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। এর পরপরই ২৫ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় জুবিনের টিমের ড্রামার শেখরজ্যোতি গোস্বামীকে। এরপর পয়লা অক্টোবর জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা ও নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালের আয়োজক শ্যামকানু মহন্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার গ্রেপ্তার হন টিমের গায়িকা অমৃতপ্রভ মহন্তও। এদিকে শেখরজ্যোতির সাম্প্রতিক জবানবন্দি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জেরার মুখে শেখরজ্যোতি গোস্বামী জানান, “সিঙ্গাপুরে প্যান পেসিফিক হোটেলে জুবিনের সঙ্গে ছিল ওঁর ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা। তবে গায়কের মৃত্যুর ঠিক আগে সিদ্ধার্থ ভীষণ রহস্যজনক আচরণ করছিল।” তাঁর আরও দাবি, “মৃত্যুর দিন ম্যানেজার সিদ্ধার্থ একপ্রকার জোর করেই বোটের গতিবিধি নিজের কন্ট্রোলে রেখেছিল। এমনকী বোটচালককেও সরিয়ে দিয়ে বাকিদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। আর কেউ যাতে কিছু না বলে, সেই নির্দেশও দিয়েছিল আরেকজনকে। জলের মধ্যে জুবিনদার যখন শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, তখন ওঁর ম্যানেজার চিৎকার করে বলেছিল- ওকে ছেড়ে দাও।”
তদন্তকারীদের কাছে শেখরজ্যোতি আরও জানান, “জুবিনদা নিজে ভালো সাঁতারু ছিল। ও আমাকে আর শর্মাকে সাঁতার কাটা শিখিয়েছে। ওঁর পক্ষে জলে ডুবে মরে যাওয়া সম্ভব নয় কোনওভাবেই। শ্যামকানু মোহন্তের সঙ্গে শলা-পরামর্শ করে সিদ্ধার্থ শর্মাই জুবিনদাকে বিষ খাইয়েছে। এবং ইচ্ছে করেই সিঙ্গাপুরকে বেছে নিয়েছিল। এমনকী সিদ্ধার্থ কাউকে ওই বোটের ভিডিও শেয়ার করতেও মানা করেছিল।”
এদিকে জুবিনের মৃত্যুর ঘটনায় অসম পুলিশ ইতিমধ্যেই শ্যামকানু মহন্ত ও ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে। গত বুধবার দিল্লি থেকে দু’জনকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ, এবং গুয়াহাটি কোর্ট তাঁদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তবে তদন্তকারীরা সিদ্ধার্থ শর্মার বয়ানে সন্তুষ্ট নন। প্রমাণ বা যৌক্তিক তথ্য উপস্থাপন করতে না পারায় সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এই পরিস্থিতিতে, সিটের জেরায় শেখরজ্যোতির নতুন দাবি রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে। অন্যদিকে ‘মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো’র অভিযোগ তুলে নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যাল-এর আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।



