মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেও জলছাড়া বন্ধ নয়, ডিভিসির সিদ্ধান্তে বাড়ছে আশঙ্কা
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া হুঁশিয়ারির পরেও ড্যাম থেকে জলছাড়া বন্ধ হয়নি। শনিবার সকালেও ডিভিসি-র পক্ষ থেকে প্রায় ৭০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ফের দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পুজোর সময় টানা বৃষ্টির সঙ্গে নিম্নচাপের প্রভাব এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই ডিভিসি যেভাবে দফায় দফায় জল ছাড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে। শুক্রবার মাইথন ড্যাম থেকে ৪২ হাজার ৫০০ কিউসেক ও পাঞ্চেত থেকে ২৭ হাজার ৫০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়। শনিবার সকালেও জলছাড় অব্যাহত ছিল—মাইথন থেকে ৩২ হাজার ৫০০ কিউসেক এবং পাঞ্চেত থেকে ৩৭ হাজার ৫০০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়। সবমিলিয়ে মোট প্রায় ৭০ হাজার কিউসেক জল ড্যাম থেকে মুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার X (টুইটার) হ্যান্ডেলে টানা দুটি পোস্টে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, “এটি কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটি ডিভিসির তৈরি করা বিপর্যয়। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি কাউকে বাংলার বিসর্জন করতে দেব না। আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে প্রতিটি ষড়যন্ত্র পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিহত করব।”
https://x.com/MamataOfficial/status/1974088181147656618
রাজনৈতিক মহলে খবর, ডিভিসি যেভাবে রাজ্যের মতামত উপেক্ষা করে জলছাড়া অব্যাহত রেখেছে, তা নিয়ে এবার তৃণমূল কংগ্রেস আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। লক্ষ্মীপুজো শেষ হলেই কলকাতার ডিভিসি টাওয়ার ঘেরাওয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ বিষয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, “ডিভিসি প্রতি বছরই ম্যান-মেড ফ্লাড করে থাকে। এবার যেহেতু নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে, তাই তারা ফের একই কাজ করছে এবং দুর্গাপুজোকেও ছাড় দেয়নি। মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।”
অন্যদিকে, ডিভিসি কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে জল ছাড়ে না। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের (CWC) নির্দেশ অনুযায়ীই জল ছাড়া হয়। ঝাড়খণ্ডে অতিবৃষ্টি হওয়ায় মাইথন ও পাঞ্চেত ড্যামের জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তাই CWC-র নির্দেশ মেনেই নির্দিষ্ট পরিমাণ জল ছাড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিভিসি।



