‘অভিজ্ঞদের ছাড়া মানিয়ে নেওয়া কঠিন’, অবশেষে রোহিত, কোহলি এবং অশ্বিনের ভূমিকার গুরুত্ব স্বীকার করতে বাধ্য হলেন গৌতম গম্ভীর
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

দলের ভেতরে অভিজ্ঞতার ঘাটতি মুহূর্তেই পূরণ করা যায় না এমন বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত মেনে নিতে হল টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ধারাবাহিক খারাপ পারফরম্যান্সের পর গম্ভীর উপলব্ধি করেছেন, কয়েকটি ম্যাচ খেলা তরুণদের দিয়ে ১০০ টেস্ট খেলা প্রতিভাদের জায়গা পূরণ সম্ভব নয়। তাঁর মতে, ১০-১৫ ম্যাচের অভিজ্ঞতা থাকা ‘বাচ্চা’ ক্রিকেটারদের থেকে অশ্বিন-রোহিতদের মানের পারফরম্যান্স আশা করাই অবাস্তব।
গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান। তিন তারকার আকস্মিক অবসর সিদ্ধান্ত ক্রিকেট মহলের অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। অনেকে মনে করেন, গম্ভীর কোচ হওয়ার পরেই ভারতীয় ক্রিকেটে তারকাকেন্দ্রিক সংস্কৃতি ভাঙার উদ্যোগ শুরু হয় এবং সেই লক্ষ্যেই দলে তরুণদের বেশি সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু এই পরীক্ষানিরীক্ষার ফলেই দলের ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, যার মূল্য দিতে হচ্ছে ভারতীয় দলকে।
নিউজিল্যান্ড সিরিজে হার, অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজয়, তার পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেও লজ্জাজনক ফল—পরপর ব্যর্থতার পর এবার গম্ভীরও বুঝেছেন, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতি দলের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় ছিল। তাঁর দাবি, টিম ইন্ডিয়া এখন একটি বড় রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে। তাই ক্রিকেটারদের মানিয়ে নেওয়ার জন্য আরও সময় দিতে হবে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “এত বেশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে একসঙ্গে হারালে সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। এই সময়টাকেই আমরা ট্র্যানজিশন বলছি। নতুন ক্রিকেটারদের মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া দরকার।” কোচ আরও যোগ করেন, “এর আগে কখনও ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই একসঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। হয় ব্যাটিং ঠিক থাকে, নাহ বোলিং ঠিক থাকে। এই দল পুরো নতুন করে শুরু হচ্ছে। ফলে কিছুটা সময় দিতে হবে।”
উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ওয়াশিংটন সুন্দরের নাম। গম্ভীরের বক্তব্য, “আমরা ওয়াশিংটনকে যতটা বেশি সম্ভব সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু আপনি যদি ভাবেন ১০০-র বেশি টেস্ট খেলা অশ্বিনের মতো খেলে দেবে ওয়াশিংটন, তা হলে তরুণ ছেলেটার উপরে অবিচার করা হবে।” এরপর তিনি বলেন, “ট্রানজিশনে ক্রিকেটারদের সময় দিতে হবে। সবে ১০-১২-১৫টা টেস্ট খেলেছে ওরা। এখনও শিখছে। আলাদা পরিবেশে, আলাদা পরিস্থিতিতে খেলা শিখছে।”



