‘ভীতু হলে চলবে না’, সীমান্তে আরও সতর্কতা চাই, কোচবিহার থেকে পুলিশকে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সীমান্ত সুরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে রাজ্য পুলিশের প্রতি কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার কোচবিহারের প্রশাসনিক সভা থেকে পুলিশের ভূমিকায় আরও তৎপরতা চান তিনি। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী একদিকে কেন্দ্র ও বিএসএফকে সরাসরি নাম না করে আক্রমণ করেন, অন্যদিকে সীমান্ত জেলাগুলিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আরও শক্ত হাতে সামলানোর নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ”কোচবিহার জেলা বর্ডার জেলা। আইনশৃঙ্খলা ভালোভাবে দেখে রাখতে হবে। বর্ডার এলাকায় অজথা কোনও হস্তক্ষেপ মানা যাবে না।” পাশাপাশি শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপরেও জোর দেন তিনি।
পুলিশ প্রশাসনকে উদ্দেশ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন ”রাজ্যের যারা অফিসার আছেন তাঁদের বলব, ভীতু হলে চলবে না। মারপিট করতে বলছি না, খুন খারাপি করতে বলছি না! তবে প্রো অ্যাকটিভ হন।” সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ড বাড়ছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন ”বর্ডার দিয়ে প্রচুর লেনদেন ইধার-উধার হচ্ছে। নাকাচেকিংটা ঠিকমতো করুন।” পাশাপাশি বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন “যাঁরা বেশি সমালোচনা করেন, তাঁরাই এটা খেয়ে যায়! আর দোষ হয় অন্য লোকের। সব পাখি মাছ খায়, দোষ হয় মাছরাঙার!”
অসমে এনআরসি নোটিশ পাঠানোর প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ উগড়ে দেন। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক মাসে বহু রাজবংশী পরিবারকে এনআরসি-র চিঠি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন ”অনেক রাজবংশী লোককে অসম থেকে এনআরসির নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। যার প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।” এরপর রাজ্য পুলিশের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি যোগ করেন ”অসম সরকারের কোনও অধিকার নেই বাংলার লোককে চিঠি পাঠানোর। পুলিশকেও আমারা বলা থাকল, অন্য রাজ্য থেকে এসে আমার রাজ্যের লোককে যেন গ্রেফতার করে নিয়ে যেতে না পারে। এটা দেখার দায়িত্ব আপনাদের।” কোনও অপরাধীকে গ্রেফতার করতে হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায় ”কোনও ক্রিমিনালকে ধরতে আসলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলুন। আমারা ক্রিমিনালকে নিশ্চয় অ্যালয় করব না।” তবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা যাবে না বলেও সাফ জানান তিনি।
কোচবিহারের এই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর নিয়ে ফের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বিএলও ও বিএলএ-দের উপর অতিরিক্ত চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তবু উন্নয়নমূলক প্রকল্প থেমে না গিয়ে অব্যাহত রাখতে হবে এমনই বার্তা দেন প্রশাসনিক প্রধান।



