জমি ছাড়ার প্রস্তাবে জেলেনস্কির সাফ জবাব, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা কার্যত অনিশ্চিত
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত হিসেবে ইউক্রেনের ভূখণ্ডের একটি অংশ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবে সায় না দিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘নিজেদের এক টুকরো জমিও রাশিয়া ছাড়ব না আমরা।’ তাঁর এই ঘোষণা স্বাভাবিকভাবেই চাপে ফেলে দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ‘শান্তি প্রক্রিয়া’ এখন কার্যত অচল অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
সাংবাদিকদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলার সময় রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন জেলেনস্কি। তাঁর বক্তব্য, ‘এতে কোনও ভুল নেই যে রাশিয়া আমাদের থেকে আমাদের এলাকা কেড়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। তবে স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি, আমরা এক টুকরো জমিও ছাড়ব না। আমরা ঠিক এই কারণেই যুদ্ধে নেমেছি।’ সেইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জমি হস্তান্তরের কোনও আইনি ক্ষমতা তাঁর নেই। জেলেনস্কি বলেন, ‘আইনিভাবে আমার কোনও অধিকার নেই দেশের জমি কাউকে দিয়ে দেওয়ার। ইউক্রেনের আইন, আমাদের সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন এবং সত্যি বলতে আমার নৈতিক অধিকারই নেই এই কাজ করার।’
ইউক্রেনের কিছু অঞ্চল রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে হবে এই চাপ বহুদিন ধরেই সৃষ্টি করছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ থামাতে গেলে ইউক্রেনকে ডনবাসের কিছু অংশ ছেড়ে দিতেই হবে। কারণ ৪ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে মস্কো সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে।’ কিন্তু ট্রাম্পের শর্তের সামনে নতি স্বীকারে জেলেনস্কি মোটেই রাজি নন।
উল্টে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের সমর্থন জোগাড়ে সক্রিয় হয়েছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠকে তিনি রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তার অনুরোধ জানান। তার আগেই রোমে পোপ লিও চতুর্দশের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জেলেনস্কি। সেখানে তিনি ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং দুই পক্ষকেই কূটনৈতিক পদক্ষেপে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।



