
ভারতের প্রথম মানব মহাকাশ অভিযান গগনযান মিশনের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ের দিকে। ‘আত্মনির্ভর’ ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ প্রকল্প সম্পর্কে বৃহস্পতিবার সংসদে বিস্তারিত তথ্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ সালের মধ্যেই জি১ মিশন সফল করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন গঠনের পথে এক বড় অগ্রগতি বলেই ধরা হচ্ছে।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ইসরো গগনযান অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ইতিমধ্যেই শেষ করেছে। জিএসএলভি এমকে-৩-এর উন্নত সংস্করণ এইচএলভিএম৩-কে এই মিশনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। উড়ানের আগে প্রপালশন সিস্টেম এবং কাঠামোগত অংশগুলিকে কঠোর নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে নেওয়া হয়েছে, যেখানে সবক’টিতেই সফলতা মিলেছে। বাকি প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলিও সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়াও ক্রু এস্কেপ সিস্টেম বা সিইএস সংক্রান্ত পরীক্ষাও সফলভাবে শেষ হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে মহাকাশযান থেকে মহাকাশচারীদের নিরাপদে প্যারাস্যুটের সাহায্যে বের করে আনা সম্ভব। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মহাকাশচারীদের সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত ইঞ্জিনটি ১৪ হাজার সেকেন্ড ধরে চালিয়েও সম্পূর্ণভাবে কার্যকর রয়েছে। এর ফলে স্পষ্ট হয়েছে, মানব অভিযানের জন্য নিরাপদ মহাকাশযান তৈরিতে ইসরো এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
প্রসঙ্গত, গগনযান মিশন ভারতের প্রথম মানব মহাকাশযান অভিযান। এর মাধ্যমে মহাকাশে নিজস্ব নভশ্চর পাঠানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি স্বতন্ত্র স্পেস স্টেশন গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। এই বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে গিয়েছেন শুভাংশু শুক্লা। গগনযান অভিযানে একাধিক ধাপ রয়েছে, যা ধীরে ধীরে সম্পন্ন করা হবে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আমেরিকা, রাশিয়া ও চিনের পর মহাকাশ প্রযুক্তিতে বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে নিজেদের জায়গা করে নেবে ভারত।



