
পটচিত্রের ঐতিহ্য ও শিল্পরীতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই ঝাড়গ্রামে আয়োজন করা হয়েছিল সাত দিনের পটচিত্র কর্মশালা। ১ থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ঝাড়গ্রাম আর্ট অ্যাকাডেমির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক উৎসব ‘রং–মাটি–মানুষ’। এ বছরের উৎসবের থিম ছিল – ‘পটে আঁকা রং-রেখা’।
এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল পটচিত্র কী ভাবে আঁকা হয়, তা শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানো। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় শিক্ষার্থীদের বার্ষিক চিত্র ও কারুকলা প্রদর্শনী। উৎসবের প্রথম দিন, ১ জানুয়ারি সকালে আর্ট অ্যাকাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি শোভাযাত্রা শহর পরিক্রমা করে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মনোজ সরকার। উপস্থিত ছিলেন ভাস্কর বিমল কুণ্ডু, চিত্রশিল্পী ভোলানাথ রুদ্র, প্রদীপ মৈত্র-সহ একাধিক শিল্পী।

এই দিনই চিত্রশিল্পী মনোজ সরকারের হাতে রামকিঙ্কর বেজ স্মৃতি সম্মাননা ‘কলের বাঁশি’ তুলে দেওয়া হয়। শহরের ঘোড়াধরায় অবস্থিত আর্ট অ্যাকাডেমির রামকিঙ্কর বেজ গ্যালারি সাজানো হয় শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি ও পাথরে তৈরি নানা শিল্পকর্মে।
সাত দিনে সাতটি ভিন্ন থিমে অনুষ্ঠিত হয় কর্মশালা— ১ জানুয়ারি ‘পটের গানে পিংলা’, ২ জানুয়ারি ‘রূপ ও রঙে কালীঘাট’, ৩ জানুয়ারি ‘রঘুরাজপুরের রূপকথা’, ৪ জানুয়ারি ‘পটে আঁকা চেরিয়াল’, ৫ জানুয়ারি ‘নখোদারার চিত্রকথা’, ৬ জানুয়ারি ‘পটচিত্রে ঝাড়খণ্ড’ এবং ৭ জানুয়ারি ‘তুলির টানে বৌদ্ধিস্ট থাঙ্কা’।
ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পটচিত্রের ধারা ও বৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান শিক্ষার্থী ও দর্শকরা। ঝাড়গ্রাম আর্ট অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ সঞ্জীব মিত্র জানান, পটশিল্পের দীর্ঘ ইতিহাস বাংলা ও দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এবছরের এই ভাবনা।



