সায়ককে গোমাংস পরিবেশনের অভিযোগে বেয়ারা গ্রেপ্তার, ক্ষমা চাইলেও মিলল না রেহাই
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পার্ক স্ট্রিটের এক রেস্তরাঁয় বন্ধুদের সঙ্গে নৈশভোজে গিয়ে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন টেলিপাড়ার সেলেব ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী। অভিযোগ, পাঁঠার মাংসের স্টেক অর্ডার করা হলেও তাঁদের টেবিলে গোমাংসের স্টেক পরিবেশন করা হয়। ঘটনার পরই পার্ক স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের করেন সায়ক। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার গোমাংস পরিবেশনের অভিযোগে ওই পাবের এক বেয়ারাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম শেখ নাসির উদ্দিন। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে যে ধারায় কোনও শ্রেণির ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়। এই ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
শুক্রবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে শুক্রবার ও শনিবার পরপর দু’টি ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য রেখেছিলেন সায়ক। যদিও পরে সেই পোস্টগুলি আর দেখা যায়নি। জানা যাচ্ছে, ওই রাতে সায়কের সঙ্গে রেস্তরাঁয় ছিলেন তাঁর দুই বন্ধু অনন্যা গুহ ও সুকান্ত কুণ্ডু। খিদের পেটে তাঁরা একটি মাটন স্টেক অর্ডার করেন। এরপরই গোলমালের সূত্রপাত।
সায়কের কথায়, “ওয়েটার খাবার পরিবেশন করার পর প্রথমটায় খিদের পেটে না বুঝে খেয়ে ফেলেছিলাম। তবে উনি আরেকটা স্টেকের প্লেট এনে আমাদের টেবিলে রাখাতে আমরা বিষয়টা বুঝতে পারি। অনেকেই বলছেন, পুরো প্লেট শেষ করে আমরা প্রতিবাদ করেছি, ব্যাপারটা সেটা নয়। আমি এবং অনন্যা শুধু চেখে দেখছিলাম। এর মাঝেই উনি আমাদের টেবিলে মাটনের পদ রেখে যান। অথচ আমরা একটাই স্টেক অর্ডার করেছিলাম। তখনই ওই বেয়ারাকে জিজ্ঞেস করাতে উনি বলেন, আমরা নাকি ২টো স্টেকের পদ অর্ডার করেছি। একটা মাটন আরেকটা বিফ! সেসময়ে আমি প্রতিবাদ করি। অজান্তে গরুর মাংস খাওয়ায় আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম।”
লাইভে সায়ককে ওয়েটারের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, “আমি একজন ব্রাহ্মণ। আপনি আমাকে না জানিয়েই কী করে গরুর মাংস খাইয়ে দিলেন? গোমাতাকে খাইয়ে দিলেন!” পরে ওই ওয়েটারের ধর্ম জানতে চাইলে তিনি মুসলিম বলে জানান। সেই প্রেক্ষিতে সায়ক তাঁকে প্রশ্ন করেন, “আমি আপনাকে না বলে শুয়োরের মাংস খাইয়ে দিলে আপনি খাবেন?”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল বচসা শুরু হয় রেস্তরাঁয়। ওই বেয়ারা একবাক্যে ভুল স্বীকার করে নেন এবং জানান, তিনি শুনতে ভুল করেছিলেন। সায়ক বিষয়টি পাবের অন্যান্য কর্তাদেরও জানান। তবে পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অভিনেতা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার অভিযুক্ত বেয়ারাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।



